নেপালের ত্রিদেশীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ ফুটবল দল ১-০ গোলে কিরগিজস্তান অলিম্পিক ফুটবল দলকে হারিয়ে ফাইনালে পথে এগিয়ে থাকল। আত্মঘাতী গোলে জয় পাওয়া এই ম্যাচটি টুর্নামেন্ট ফাইনালের পথে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে। ২৭ মার্চ স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ। সেই ম্যাচের ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের ফাইনালের টিকিট। তবে এর আগেও জানা যেতে পারে, যদি আগামীকাল ২৫ মার্চ নেপালের বিপক্ষে কিরগিজস্তান হেরে যায়।
৩০ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে সাদ বল নিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ দিকে ক্রস করেন বিপলু আহমেদকে। বল বিপলুর পায়ে পৌঁছানোর আগেই কিরগিজ ডিফেন্ডার বল ঠেকাতে গিয়ে গোল করেন নিজের জালে ১-০।
অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াকে মাঠে নামাননি কোচ জেমি ডে। আর্মব্যন্ড দেওয়া হয় আবাহনীর মিডফিল্ডার সোহেল রানাকে। জামাল পরীক্ষিত ফুটবলার। তাকে না দেখে নতুনদের দেখে নেওয়ার সুযোগ নিলেন কোচ। নেপালের ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে কিরজিগস্তানের অলিম্পিক দলের বিপক্ষে বাংলাদেশে কোচের পরিকল্পনাটা যেন এমনই ছিল। তাই প্রথম একাদশে তিন জন মুখ জায়গা পেয়েছেন মূল একাদশ। এই তিন জন হচ্ছেন—মোহামেডানের হাবিবুর রহমান সোহাগ, মুক্তিযোদ্ধার স্ট্রাইকার মেহেদি হাসান, বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার রিমন হোসেন। জামাল ভুঁইয়াসহ চার ফুটবলারকে পরিবর্তন করে দলের শক্তি পরখ করেছেন জেমি।
ফেসবুকে খেলা দেখেছেন অনেক দর্শক। নেপালে ২০১৫ সালে ভয়াভহ ভূমিকম্প হয়েছিল সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়াম নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে। এখন আগের চেয়ে সুন্দর এবং গোছানো। করোনার পর প্রথম টুর্নামেন্ট হচ্ছে নেপালের কাঠমান্ডুতে। রঙ্গশালা স্টেডিয়াম যেন নতুন মোড়কে, ঝকঝকে। হিমহিম ঠান্ডা আবহওয়ায় সবুজ মাঠে বাংলাদেশের ফুটবলাররা কিকঅফেই আক্রমণ শুরু করে। মাঠ বড় করে খেলা, পাসিং ফুটবল খেললেও কিরগিজদের খেলা দেখে বুঝার উপায় ছিল না তারা অলিম্পিক দল। যদিও এই দলে দুই জন জাতীয় দলের খেলোয়াড় বাড়তি শক্তি দিয়েছে। অনুজ ফুটবলাররাও সিনিয়র দুজনকে পেয়ে আরো উজ্জীবিত ফুটবল খেলল। কিরগিজ ফুটবলাররা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চেয়ে শারীরিক গড়নে অনেক এগিয়ে ছিল। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইয়ে কিরগিজস্তান ছিল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। দুই বার খেলে দুই বারই হেরেছিল বাংলাদেশ। অলিম্পিক দলটা পাঠিয়েছে প্রস্তুতির জন্য।
বাংলাদেশ দল
আনিসুর রহমান জিকো, বিশ্বনাথ, হাবিবুর রহমান সোহাগ (রিয়াদুল হাসান) মেহেদী হাসান (মানিক মোল্লা), রিমন হোসেন, টুটুল হোসেন বাদশা, মাসুক মিয়া জনি (জামাল ভুইয়া), বিপলু আহমেদ (রাকিব হোসেন), মতিন মিয়া, সোহেল রানা ও সাদ উদ্দিন।
