‘খারাপ কাজের কারণেই ভালো কাজগুলো আলাদা করতে পারি’

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২১, ২০:০৫

গীতিকার, নাট্যাকার ও লেখক পরিচয়ের সঙ্গে নির্মাতা হিসেবেও নিজেকে প্রকাশ করছেন প্রতিনিয়ত। তার নাম ইশতিয়াক আহমেদ। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এই নানা ক্ষেত্রের সফল বিচরণ নিয়ে কথা হয়েছে বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে।

সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

সাম্প্রতিক কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাই—

সাউন্ডটেকের নতুন একটি চ্যানেল থেকে আমার তৈরি একটি মিউজিক ভিডিও রিলিজ হবে খুব জলদি। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মিনার। গানটির কথা ও মিউজিক ভিডিও আমি নিজেই করেছি। এছাড়া বইমেলায় ‘সুটকেস’ নামে নতুন একটি বই এসেছে এবং শিগগিরই দুটি নাটকের শুটিং শুরু করবো। পাশাপাশি আসছে ঈদে বেশকিছু নাটক ও গান আসবে। এর বাইরে একটি চ্যানেলের জন্য নিয়মিত কন্টেন্ট লিখছি।

আপনি দীর্ঘদিন নাটক লিখছেন। এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়া বা মূল্যায়ন কতটুকু আছে বলে মনে করেন?

এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তো অবশ্যই আছে। কারণ আমাদের চারপাশে অনেক ভালো গল্প আছে, সেগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে দর্শকরা গ্রহণ করেন। সেই গল্পগুলো বলার ধরন যদি ভালো হয় তাহলে

নিঃসন্দেহে ক্যারিয়ার গড়া যায়। এখন তো শুধু টিভি না, অনেক নতুন মাধ্যম চলে এসেছে। কাজের পরিধিও বেড়েছে। তবে মূল্যায়নের বিষয়ে বলবো, আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই যারা নাটক বা গান লেখেন তাদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না।

কিন্তু নতুন এই মাধ্যমে মানহীন কাজ নিয়েও

সমালোচনা হচ্ছে। এতে ভালো কাজে কতটা প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন?

না, আমার মনে হয় এতে তেমন কোনো খারাপ প্রভাব পড়ছে না। কারণ কিছু খারাপ কাজের কারণেই আমরা ভালো কাজগুলো আলাদা করতে পারি। আমরা বুঝতে পারি কোথায় ভালো কাজগুলো দেখতে পাবো। দর্শক-শ্রোতারা ভালো কাজগুলোই কিন্তু গ্রহণ করেন।

নাটক ও গান লেখার পাশাপাশি নাট্য নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন। এই মাধ্যম পরিবর্তনের কারণ কী?

আসলে আমি নাটক, গান লেখাতেই নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চেয়েছিলাম। তবে যখন দেখলাম লেখালেখিকে এক ধরনের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। শুধু অর্থনৈতিক মূল্যায়ন না, ব্যক্তি মূল্যায়নও এখানে কম রয়েছে, তখন ভাবলাম আমার লেখা যদি আমি নিজের মতো করে তুলে ধরতে পারি, পরিচালনা যদি শিখতে পারি তাহলে অবমূল্যায়িত হওয়ার সম্ভাবনা একটু কম থাকবে। বঞ্চিত হওয়ারও সুযোগ থাকবে না। এমন ভাবনা থেকেই নির্মাণে আসা।

আপনার লেখায় নগর জীবনের প্রভাব বেশি দেখা যাওয়ার কারণ কী বলবেন?

এই কথাটিতে আমার একটা আপত্তি আছে, গল্প লিখতে গেলে, উপন্যাস লিখতে গেলই কেন প্রত্যন্ত গ্রামের কথা লিখতে হবে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা লিখতে হবে? আমার শহরেই তো অনেক গল্প আছে। আসলে আমি আমাদের সময়ের গল্প বলতে চাই।

 

 

 

০