এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা সৃষ্টিশীল মাধ্যমে প্রভাব ফেলবে—এটাই স্বাভাবিক। মুক্তিযুদ্ধের সেই গল্পের কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে জানাতে প্রতিবছরই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নির্মিত হয় বেশকিছু নাটক ও টেলিফিল্ম, যা সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো প্রচার করে থাকে। এবারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নির্মিত দুটি বিশেষ নাটক নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ
বিউটি বোর্ডিং ১৯৭১
একাত্তরের মার্চের কথা। খুব সকালে ঘুম থেকে পুজো সেরে বিউটি বোর্ডিংয়ে চলে আসেন প্রহ্লাদ সাহা। সমস্ত বোর্ডারদের খোঁজখবর নেন। রাত দশটা বাজলে ফের বাড়ির দিকে যান। ঘরে তার অনিন্দ্য সুন্দরী স্ত্রী প্রতিভা রানী সাহা; আছে দুটো পুত্র সন্তান। এদিকে দেশের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। উত্তপ্ত হতে থাকে সব। প্রতিবাদের ঝড় উঠছে পাকিস্তানী সরকারের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে এসে গেল ৭ মার্চ। তারপর পঁচিশে মার্চের রাত্রিতে প্রহ্লাদ বাবু ঘরে ফিরতে না ফিরতেই শুরু হয়ে যায় নারকীয় হামলা। মুক্তিকামী পুরো একটা দলকে ধরে নিয়ে যেতে দেখে ফটোগ্রাফার বিজন সরকার। তিনি দৌড়ে গিয়ে রানীকে খবর দেন। পাগলের মতো ছুটতে থাকেন রানী। কিন্তু বোর্ডিংয়ে গিয়ে কাউকে খুঁজে পান না। এদিকে দেখা যাবে—অকথ্য নির্যাতনের পর পাক হানাদাররা মেরে ফেলেছে সবাইকে এবং লাশ ভাসিয়ে দেয় নদীতে। তারপর কেটে গেছে কত বছর। প্রতিভা রানী সাহা তার দুই ছেলেকে নিয়ে আবার বিউটি বোর্ডিং চালু করলেও বুদ্ধিজীবীদের পদচারণায় আজ আর মুখরিত হয় না ঠিকই, কিন্তু দেশের জন্য আত্মত্যাগের স্তম্ভ স্বরূপ বিউটি বোর্ডিং আজো তেমনি আছে—এমনি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ নাটক ‘বিউটি বোর্ডিং ১৯৭১’। মেজবাহ উদ্দীন সুমনের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ। এতে অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন, রামিজ রাজু, নিশাত প্রিয়ম, এস এম মহসিন প্রমুখ। নাটকটি আগামীকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় এনটিভিতে প্রচার হবে।
অসমাপ্ত
মুনিরের বিয়ে ঠিক হয়েছে। তার বাবা চান যত দ্রুত সম্ভব বিয়েটা সেরে ফেলতে। কারণ বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। পাশের গ্রামেরই এক গেরস্থের এক শিক্ষিত মেয়ের সঙ্গে সম্বন্ধ পাকা করে দিন তারিখ ঠিক করে এসেছেন তিনি। বাবাকে মুখের ওপর না করার সাহস যে নেই মুনিরের। কিন্তু বিয়ের আগের রাতে মুনির সিদ্ধান্ত নেয় যুদ্ধে যাওয়ার। সেইসঙ্গে হবু স্ত্রীকে একটা চিঠি লিখে ক্ষমা চেয়ে রাতের আঁধারেই পালাতে চায় মুনির। চিঠি লিখতে বসে মুনির। সামনে পড়ে থাকে সালেহার ছবিটা। চিঠি লেখা শেষ করে অতিযত্নে পড়ার টেবিলের ওপর কাচের গ্লাসের নিচে রেখে দিয়ে বের হয়ে পড়ে মুনির এবং একসময় সে নদীর ঘাটে পৌঁছায়। আবছা আলোয় ঠাহর হয় একটা নৌকা। ছেড়ে দেবে এক্ষুণি। দৌড়ে এসে ওঠে। নরেন মাঝির নৌকাই বটে। কিন্তু নৌকায় উঠে সে টের পায়—তাতে আরেকটি মানুষ আগে থেকেই উঠে বসে আছে। নৌকায় আর কেউ নেই! একসময় মুখ ঢেকে বসে থাকা মানুষটি ঘুরে বসে; মুখের কাপড়টা সরায়। লণ্ঠনের মৃদু আলোয় মুনির সেই মুখ দেখে চমকে ওঠে। এ যে সালেহা! সালেহা নিচু স্বরে জানায়, সে-ও বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে। দেশের এই দুঃসময়ে সে বিয়ে করতে রাজি নয়; বরং সে যুদ্ধ করতে চায়—এমনি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ নাটক ‘অসমাপ্ত’।
সারওয়ার রেজা জিমির রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন তুহিন হোসেন। এতে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, মেহজাবিন চৌধুরী প্রমুখ। ‘অসমাপ্ত’ নাটকটি শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাত ৮টায় আরটিভিতে প্রচার হবে।
