এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী খুন, জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য মেলেনি

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৪

রাজধানীর বারিধারা জে ব্লকে এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী শামীম (২৪) হত্যাকান্ডের ৬ দিন পার হলেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় ৪ জনকে রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোন তথ্য মেলেনি। রিমান্ড শেষে গতকাল শনিবার ওই চারজনকে ফের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে নেয়া হলে আদালত প্রত্যেককে ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নিহতের পরিবার বলছে, গত রবিবার দুপুরে শামীমের ছোট ভাই আমিনুলকে মারধর করেছিল গ্রেফতারকৃতরা। এনিয়ে  শামীমের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতরাই শামীমকে হত্যা করেছে। পুলিশ ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসবে।

গত সোমবার ভোরে বারিধারায় যমুনা ব্যাংকের এটিএম বুথের ভেতর থেকে শামীমের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে ভাটারা থানার পুলিশ।  শামীমের বাবা নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে একই প্রতিষ্ঠান  ‘এলিট সিকিউরিটি ফোর্স লিমিটেড’-এর জোন কমান্ডার ফারুক-উল-ইসলাম ফারুক, জোন কমান্ডার মো. শাহিন, সহকারী জোন কমান্ডার নজরুল ইসলাম ও আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন।  ফারুকের বিলাসী জীবনযাপনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মাসে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা বেতন পেলেও তার ব্যবহূত প্রাইভেট কারটির মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। ফারুকের বারিধারার দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও হত্যাকান্ডে বিষয়ে কোনো তথ্য মেলেনি। কিন্তু বাদির অভিযোগ তারাই শামীমকে হত্যা করেছে। ফারুক দূর সর্ম্পকে শামীমের মামা। ফারুকই তাদের চাকরি দিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে গ্রেফতারকৃতরা সরাসরি হত্যাকান্ডে অংশ না নিলেও অন্য কারো মাধ্যমে ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজে যে ৪ জনকে দেখা গেছে, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ফুটেজে চুল ছাড়া অন্য কিছু বোঝা যাচ্ছে না। ফুটেজে দেখা গেছে হত্যাকান্ডটি ২২/২৫ সেকেন্ডের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।  পাওনা টাকা, পূর্ব শত্রুতা, ব্যক্তিগত বিরোধ ও অপমানের প্রতিশোধসহ একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত চলছে।