ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ১, ট্রেন ও যান চলাচল বন্ধ

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২১, ২১:৫১

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে এবং চট্টগ্রামে মাদারাসাছাত্রদের ওপর হামলার খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ করছেন মাদরাসাছাত্ররা। একই সঙ্গে রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করায় ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। 

এ ঘটনায় শহরের কাউতলী এলাকার দাতিয়ারা গ্রামের সাগর মিয়ার ছেলে আশিক (২৫) গুরুতর আহত হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু হয়।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) বিকেল তিনটা থেকে জেলা সদরের বিভন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা। বিকেল সাড়ে সাড়ে তিনটার দিকে জেলা সদরের ভাদুঘর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধরা। এরপর বিকেল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. শোয়েব আহমেদ বলেন, বিকেলে কয়েকশ মাদরাসাছাত্র স্টেশনে এসে হামলা চালান। এ সময় তারা প্যানেল টিকিট কাউন্টার, প্যানেল বোর্ড ও যাত্রীদের চেয়ার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিকেল সোয়া ৫টায় ব্যাপক হামলা চালানো হয়। শহরের কাউতলী, ভাদুঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়। সড়কে আগুন ধরিয়ে রাস্তায় অবরোধ করা হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহিলপুর, নন্দনপুর, মজলিশপুর, ঘাটুরাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে দূরপাল্লা সকল যানবাহন বন্ধ রয়েছে। 

শহরের জেলা পরিষদ, পৌর মুক্ত মঞ্চ, পৌর মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুারাল ভেঙ্গে ফেলে। স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আলোকসজ্ঝা ও সড়ক সজ্জিতকরণ ব্যানার ফেস্টুরন ভেঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা। শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাংচুর করা হয়। উগ্র বিক্ষুব্ধরা নরেন্দ্র মোদী বিরোধী শ্লোগান দেয়। এক সময় বিক্ষুব্ধরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা জজ এর বাস ভবনের মূল ফটকে হামলা চালায়। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ প্রায় ৫ শতাধিক লোক জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে গ্যারেজে থাকা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। 

হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ২নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরে আলম, পুলিশ সদস্যসহ ২০ জন আহত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শহরে থম থমে অবস্থা বিরাজ করছিল। সারা শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান নিহত হবার ঘটনা জানেন না বলে জানান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। 


ইত্তেফাক/এনএ