প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৫

প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সহায়ক পরিবেশ তৈরি না করায় গত বছরের নভেম্বরে পূর্ব নির্ধারিত সময়ে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকার জোরালো ভূমিকা রাখবে, এমন আশায় বুক বেঁধেছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু এরই মধ্যে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় সেখানে অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে প্রত্যাবাসন তো দূরের কথা রোহিঙ্গা সংকট আরো ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

মিয়ানমারের বুচিডং এলাকায় বসবাসরত স্বজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান রশিদ আহম্মদ জানান, বিদ্রোহী আরাকান আর্মি দমনের নামে মিয়ানমার সেনা ও বিজিপি বুচিডংয়ের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাম-গঞ্জে হানা দিয়ে গোলাবর্ষণসহ  ঘর-বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এতে সেখানকার বিদ্রোহী মুরং জাতি গোষ্ঠীর পাশাপাশি রোহিঙ্গারাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপায়হীন এসব রোহিঙ্গারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদেশে চলে আসতে চাইছে। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে দাবি করে ওই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকার চাইলেও প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে না। 

ক্যাম্পের মাজি ফজল করিম জানান, বর্তমানে মিয়ানমারে সেনা অভিযানে আরাকান আর্মির পাশাপাশি রোহিঙ্গারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যেতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। কিন্তু এমন অবস্থায় তাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, মিয়ানমার কূট কৌশলের আশ্রয় নিয়ে এক এক সময় এক এক অজুহাত খাড়া করে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করছে। উপরন্তু রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা বাস্তুভিটায় মিয়ানমার সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে বলে তারা বিভিন্ন সূত্রে জেনেছেন। কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি মোঃ নুর জানান, মিয়ানমারের একগুঁয়েমি মনোভাবের জবাব দিতে বাংলাদেশ সরকারকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

উখিয়া উপজেলা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি এবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করছি।