‘বাড়ি ও বাগান গড়ে তুলে বেদখল হচ্ছে লাউয়াছড়ার টিলাভূমি’ শিরোনামে গতকাল শনিবার দৈনিক ইত্তেফাকের শেষ পৃষ্ঠায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এবং সিলেটের পরিবেশ অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান চালিয়ে একটি ঘর ভেঙে দিয়েছে। এদিকে লাউয়াছড়া উদ্যান সংলগ্ন মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জের কালাছড়া বনের বাফারজোন এলাকার কয়েকটি টিলা আগুনে পুড়ে বিরান ভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। ফলে বন্যপ্রাণির আবাসস্থল বিনষ্ট ও পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকাল দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমি আক্তার, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট এর সহকারী পরিচালক মো. রাসেল নোমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সিলেট এর উপ-পরিচালক মো. তওফিকুল ইসলাম লাউয়াছড়ার টিলায় সরেজমিনে তদন্তে যান। এসময় টিলাকেটে বাড়ি করা হচ্ছে দেখে তাত্ক্ষণিক স্থানীয় ফরেস্ট ভিলেজার রশীদ মিয়ার নির্মিত একটি ঘর ভেঙে ফেলা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিগত কয়েক যুগ ধরে বন্যপ্রাণী রেঞ্জের অধীনস্থ এসব টিলাভূমিতে ফরেস্ট ভিলেজাররা বনাঞ্চল দেখভালের জন্য বনবিভাগের কাছ থেকে জমি নিয়ে বসবাস করছেন। এসব টিলায় বাফারজোনের গাছও বিক্রি করা হয়েছে। ফলে টিলা সমূহের ছোট বড় সবক’টি গাছ কাটার সাথে সাথে টিলার ঝোপজঙ্গলও আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া কয়েকটি টিলা কেটে নতুন বাড়ি নির্মাণের চিত্রও দেখা গেছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমি আক্তার বলেন, পত্রিকায় সংবাদ পেয়ে সরেজমিনে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে গেলেও সেখানে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান টিলায় আগুন লাগানোর বিষয়ে বলেন, আসলে ফরেস্ট ভিলেজাররা সচেতন নয়, তাই তারা না বুঝে আগুনে পুড়িয়ে ফেলছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট এর সহকারী পরিচালক মো. রাসেল নোমান বলেন, টিলা কেটে আনারস বাগান তৈরি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিএফওর সঙ্গে কথা হয়েছে। একটি টিলার একাংশ কেটে নির্মিত একটি ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। দখলদারদের নাম সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
