বাসের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ

পুড়ে মারা গেলেন তিন পরিবারের ১৭ জন

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২১, ২২:৫১

যানবাহনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা বাড়ছে। রাজশাহীতে গতকাল বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনে পুড়ে মারা গেল ১৭ মাইক্রোবাস যাত্রী। এছাড়া সড়কে ঝরল পুলিশ কনস্টেবলসহ আরো সাত জনের প্রাণ। এর মধ্যে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পিকনিকের বাস উলটে ঘটনাস্থলেই দুই জন নিহত, নয় জন আহত,  নেত্রকোনায় মোটরসাইকেল  পিকআপ ভ্যান সংঘর্ষে পুলিশ কনস্টেবল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ভটভটি ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রী, নরসিংদীর পলাশে ট্রাকচাপায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কর্মকর্তা ও মাগুরায় যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী জানান, রাজশাহীতে বাস ও মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনে পুড়ে নারী ও শিশুসহ তিন পরিবারের ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের কাঁটাখালী থানার মোড়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরো দুই জন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। মাইক্রোবাসের যাত্রীরা রংপুরের পীরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তারা নিজ নিজ বাড়ি থেকে সপরিবারে রাজশাহীতে আত্মীয় বাড়ি আসছিলেন বলে জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি বাঁশবোঝাই ভ্যান ও এক কিশোর সাইকেল চালিয়ে রাজশাহী শহরের অভিমুখে আসছিল। এসময় মাইক্রোবাসটি বাঁশ বোঝাই ভ্যানকে ওভারটেক করতে গেলে ঢাকা অভিমুখী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশের দাঁড়িয়ে থাকা একটি গ্যাসচালিত হিউম্যান হলারকে (সিএনজি) ধাক্কা দেয়। এসময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে যায়। এতে মাইক্রোবাসের ড্রাইভারসহ ১১ যাত্রী ভেতরেই পুড়ে মারা যায়। বাকি ছয় জন রামেক হাসপাতালে মারা যায়। এদিকে মাইক্রোবাসের আগুন হিউম্যান হলারেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে যাত্রীবিহীন হিউম্যান হলারটিও পুড়ে যায়। অন্যদিকে হানিফ পরিবহনের বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ড্রাইভার গুরুতর আহত হন। তবে যাত্রীদের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, রংপুরের পীরগঞ্জের রাজারামপুর গ্রামের সালাহউদ্দিন, তার স্ত্রী শামসুন্নাহার, শামসুন্নাহারের বোন কামরুন্নাহার, তাদের সন্তান সাজিদ ও সাবা, দারিকাপাড়া গ্রামের মোখলেসুর রহমান, বড়মজিদপুর গ্রামের ফুলমিয়া ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম এবং তাদের সন্তান সুমাইয়া, সাদিয়া ও ফয়সাল, পীরগঞ্জ সদরের তাজুল ইসলাম ভুট্টু, তার স্ত্রী মুক্তা ও সন্তান ইয়ামিন। বাকি তিন জন এবং হাসপাতালে চিকিত্সাধীন দুই জনের পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে কাটাখালীতে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন  সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। ঢাকায় অবস্থারত রাসিক মেয়র দুর্ঘটনার পর থেকে মোবাইল ফোনে দুর্ঘটনার বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেন।

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, পিকনিকের বাস উল্টে ঘটনাস্থলেই দুই জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়। গতকাল সকাল ১০টার দিকে রংপুরমুখী একটি পিকনিকের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ফাঁসিতলা বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজি ও অটোরিকশাকে চাপা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা গ্রামের মোহন মিয়া ও কনফেশনারির বিত্রুয় কর্মকর্তা ফিরোজ কবির।

নেত্রকোনা  প্রতিনিধি জানান,  নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের বাগড়া মাদ্রাসার নিকট গত বৃহস্পতিবার পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেলচালক পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম (৩৫) ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। নিহত সাইফুলের বাড়ি পার্শ্ববর্তী গৌরীপুর উপজেলায়।

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গোমস্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী সাবেক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুস সালাম (৬২) ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকালে রহনপুর-আড্ডা আঞ্চলিক সড়কের দামপুরা নামক স্থানে ভটভটি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি এই সংঘর্ষ ঘটে।

পলাশ (নরসিংদী) সংবাদদাতা জানান, শুক্রবার সকালে বাগপাড়া এলাকায় ট্রাকচাপায় পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি অফিসার মোস্তফা কামাল (৪০) নিহত ও আহত হন আরেক উপসহকারী কমিউনিটি অফিসার হারুন অর রশিদ (৪৫)। নিহত মোস্তফা কামাল টাঙ্গাইল সদরের মৃত শুক্কুর মাহমুদের ছেলে।

ঘাতক ট্রাক ও চালককে আটক করা হয়েছে।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীপুর উপজেলার ঘাসিয়াড়া জিকে আইডিয়াল কলেজের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের জেলা শাখার যুগ্মসম্পাদক মনসুর আহম্মেদ রবি (৪০) নিহত হন। নিহত রবি পৌর এলাকার পারনান্দুয়ালী গ্রামের মৃত মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে। এই দুর্ঘটনায় আহত সোহাগ বিশ্বাস নামে অপর একজনকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।