প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর কথা বলে মাছ ছিনতাইকারী!

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৭

পুলিশ কর্মকর্তার কেনা দুটি কোরাল মাছ জোরপূর্বক আড়তদারের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিলেন এক জনপ্রতিনিধি! ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার দুুপুরে পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটার মহিপুর মাছের আড়তে। কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আ. বারেক মোল্লা প্রধানন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর কথা বলে ওই মাছ দুটি কেড়ে নেন বলে অভিযোগ করেছেন মাছের প্রথম ক্রেতা স্থানীয় নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. শাহ আলম।

ঘটনাটি কুয়াকাটা ছাড়িয়ে গোটা জেলায় ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মেয়র ও তার লোকজন উঠে পড়ে লেগেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র বারেক মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি মাছ দুটি আড়তদারের কাছ থেকে কিনেছি।’

ভুক্তভোগী কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ৩/৪দিন আগে ১০ কেজি  এবং ৬ কেজি ওজনের দুটি কোরাল মাছ প্রায় ২২ হাজার টাকায় কিনে স্থানীয় বশিরের মাছের আড়তে রেখে দিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার বিকালে সেই মাছ বাড়িতে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাছের আড়তদার বশির ফোন দিয়ে তাকে জানান যে, তার ফ্রিজে রাখা ওই কোরাল মাছ দুটি কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র বারেক মোল্লা নিয়ে যেতে এসেছেন। একপর্যায়ে বশিরের ওই ফোন দিয়ে শাহ আলম মেয়রের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি মেয়রকে সবকিছু খুলে বলে। আলাপের এক পর্যায়ে মেয়র তাকে বলেন, ‘এই মাছ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠাতে হবে। আমি কুয়াকাটার মেয়র, আমি এত বড় মাছ পাই না আর তোমরা পুলিশ হইয়া এত বড় মাছ এখান থেকে নিবা?’ পরে মেয়র জোর করে তার লোকজন দিয়ে ফ্রিজ থেকে ওই কোরাল মাছ দুটি নিয়ে যান।

তাত্ক্ষণিক বিষয়টি মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান এবং নৌ পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমকে অবহিত করা হয় বলে ভুক্তভোগী জানান। জানতে চাইলে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সামান্য মাছ তা-ও পুলিশের ক্রয় করা, সেই মাছও যদি রক্ষা না পায়! ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।