দুই দিনে নারীসহ চার জনের মৃত্যু
খুলনা অফিস
খুলনায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। গত দুই দিনে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় নারীসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
খুমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, করোনা ইউনিটে গত দুই দিনে চিকিত্সাধীন অবস্থায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ মার্চ রাতে হাছিনা বেগম (৭২) মারা যান। তিনি পিরোজপুরের ছোট খলিশাখালী এলাকার আজহার আলীর স্ত্রী। হাছিনা বেগম গত ১৫ মার্চ থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন। এর আগে ২৫ মার্চ রাতে যশোরের নিউমার্কেট এলাকার মৃত গোলামের ছেলে জাহাঙ্গীর কবিরের (৫২) মৃত্যু হয়। তিনি গত ২৪ মার্চ খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। এছাড়া ২৪ মার্চ সকালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ঝিনাইদহ সদরের আরবপুর এলাকার মৃত সিরাজুল হকের ছেলে আবুল হাসেম (৪৫) এবং বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আবু বক্করের স্ত্রী সাহিদা বেগম (৬৫) মারা যান। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক (আরএমও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সারা দেশের মতো খুলনায়ও করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। কিছুদিন আগেও খুলনায় করোনা সংক্রমণ কম ছিল। গত দুই দিনে খুলনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, করোনার টিকা নেওয়া মানেই করোনা মুক্ত হওয়া নয়। করোনার দুটি ডোজের টিকাই নিতে হবে। টিকা নেওয়ার পর মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে অন্তত দুই মাস সময় লাগে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর মেশিনে ৫২৩ জনের করোনা পরীক্ষায় ২৫ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়। এর মধ্যে খুলনার ১৪ জন, বাগেরহাটের পাঁচ জন, সাতক্ষীরার তিন জন, যশোরের একজন ও নড়াইলের দুই জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এর আগে ২৪ মার্চ রাতে খুমেক হাসপাতালের পিসিআর মেশিনে ৪৭০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৬ জনের পজিটিভ রিপোর্ট আসে। যার মধ্যে খুলনার ১২ জন, বাগেরহাটের একজন, যশোরের দুই জন ও পিরোজপুরের একজন ছিল।
খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ২৫ মার্চ পর্যন্ত খুলনা জেলায় মোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৩৭ জন টিকা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৬ হাজার ২১২ জন এবং নারী ৬৫ হাজার ৫২৫ জন। খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নেওয়াজ মোহাম্মদ বলেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।
খুলনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ইউসুপ আলী বলেন, খুলনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মামলা দায়ের ও জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
