যাচ্ছে রাজধানীসহ সারা দেশে
ফারুক আহমেদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ও সাখুয়া ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ কৃষক সারা বছর উত্পাদন করছেন বিভিন্ন জাতের সবজি। এই দুই ইউনিয়নে রয়েছে ১৮ গ্রাম। এসব গ্রাম থেকে সবজি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। বিভিন্ন বারোমাসি সবজি ব্যাপকভাবে উত্পাদন হওয়ার ফলে গ্রামের নাম রামপুর ও সাখুয়া হলেও এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এখন সবজির গ্রাম হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ঐ সব এলাকার প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে গ্রামের ৮০ শতাংশ কৃষক বছর জুড়ে কচু, লতা, আলু, বেগুন, সিম, শসা, কুমড়া, করলা, ঢ্যাঁরসসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজি উত্পাদন করে থাকেন। সবজি চাষে অল্প ব্যয়ে লাভবান হচ্ছেন এই অঞ্চলের চাষিরা। ছেলেমেয়ের পড়াশোনাসহ পরিবারের যাবতীয় ব্যয় আসছে সবজি বিক্রির অর্থ থেকে। সবজি চাষে অনেক পরিবারের সচ্ছলতা দেখে এ অঞ্চলের বেকার যুবকেরা তাদের কর্মসংস্থান হিসেবে সবজি চাষ বেছে নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায় ঘুরির মধ্যে ঝুলছে সবুজ শসা, কুমড়া, করলা আর কচুখেতগুলো ছেয়ে গেছে লতায়। পাইকারি ও খুচরা বিক্রির জন্য সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খেতগুলো থেকে তাজা সবজি ও লতা তুলে স্তূপ করা হচ্ছে। ট্রাকে বোঝাই করে কুমড়া, শসা, করলা, লতা যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
সাখুয়া উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল গনি বলেন, ‘আট কাঠা জমিতে কচুর আবাদ করে লতার বেশ ভালো ফলন পেয়েছি। দুই-তিন মাস লতা বিক্রির পর কচু বিক্রি করা যাবে। এতে ৩ লাখ টাকারও বেশি লাভ হবে বলে আশা করছি।’ বেকার থেকে কর্মসংস্থান হিসেবে সবজি চাষ বেছে নেওয়া রামপুরের যুবক লিটন মিয়া জানান, ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ করে ৪ কাঠা জমিতে শসার আবাদ করেছি। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে এই মৌসুমে খরচের দ্বিগুণ লাভ হবে।
একই গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সারা বছর করলা, শসা, বেগুনসহ বিভিন্ন শাক-সবজির চাষ করে সংসার ও তিন ছেলের লেখাপড়ার খরচ ভালোভাবেই মিটে যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ জানান, শাক-সবজি উত্পাদনে উপযোগী মাটি বলেই ঐ এলাকাগুলোতে ভালো ফলন হয়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ১০টি আইপিএম মডেল উপজেলার মধ্যে ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের নাম রয়েছে।
