পূর্ব আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের উত্তরাঞ্চলীয় একটি শহরে আইএস-সংশ্লিষ্ট সংগঠনের হামলার পর তিন দিন ধরে হোটেলে আটকা রয়েছেন বিদেশি কর্মীসহ অন্তত ১৮০ জন বেসামরিক নাগরিক। ইতিমধ্যে তাদের খাবার ফুরিয়ে গেছে আর সশস্ত্র হামলাকারীরাও ধীরে ধীরে হোটেলের দিকে এগিয়ে আসছে। সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী হেলিকপ্টার দিয়ে আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও তা এখনো সম্ভব হয়নি। এএফপি
গত বুধবার বিকেলে আচমকা দেশটির কাবো ডেলগাদো প্রদেশের পালমা শহরে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে প্রাণ বাঁচাতে ভীতসন্ত্রস্ত বাসিন্দারা আশপাশের জঙ্গলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এ সময় একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কারখানা ও স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তারা আমারুলা পালমা হোটেলে আশ্রয় নেন। গত শুক্রবার রাতে উদ্ধার হওয়া এলএনজি কারখানার এক কর্মী ফোনে জানান, হামলায় প্রায় গোটা শহরই ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেকে মারা গেছে। তিনি বলেন, স্থানীয়রা ঝোপঝাড়ে পালিয়ে যায় আর এলএনজি কারখানার কর্মীরা হোটেল আমারুলায় আশ্রয় নেন। তাদের মধ্যে বিদেশিরাও রয়েছেন। তারা উদ্ধারের আশায় রয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, হামলাকারীরা স্থানীয়ভাবে আল-শাবাব নামে পরিচিত একটি সংগঠনের সদস্য। তবে একই নামের সোমালি সংগঠনটির সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে জানা যায়নি। এক বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, আল-শাবাবের সদস্যরা মানুষ ও ভবনগুলোর দিকে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে অনেকে মারা গেছে। রাস্তায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন তারা। মোজাম্বিক সরকার হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সেনারা হামলাকারীদের উচ্ছেদে পালটা আক্রমণ শুরু করেছে। হামলার শিকার এলাকাটিতে ফরাসি তেল কোম্পানি টোটালের ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প রয়েছে, যা আফ্রিকার মধ্যে বৃহত্তম।
