গত ১২ বছরে দেশে আমূল পরিবর্তন হয়েছে

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২১, ২২:৩৮

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গত ১২ বছরে বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। এত সব অর্জনের পেছনে আছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে দেশ পরিচালনা করা। এটা নতুন কিছু নয়, কোনো ম্যাজিকও নয়। এদেশের মানুষ জাতির পিতার নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। ৭ই মার্চের ভাষণে যা যা করতে বলেছেন, মানুষ তা-ই করেছে। তিনিই বলেছিলেন, বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আসলেও দাবায়ে রাখা যায়নি, যাচ্ছে না। আমরা তার আদর্শে দেশ পরিচালনা করে এগিয়ে যাচ্ছি।’

গতকাল রবিবার অপরাহ্নে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ২৩, বঙ্গবন্ধু অ্যাভনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। বিশ্বের সব অঞ্চল থেকেই রাষ্ট্রনেতারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেই তিনি কাজ করছেন। সেটা দেওয়ার মতো দক্ষতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। আর তা অর্জন করেছে বলেই আজকে সারা বিশ্ব বাংলাদেশের জনগণকে সম্মানিত করেছে আমাদের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষে শুভেচ্ছাবার্তা দিয়ে।            ২৬ মার্চ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি ফেসমাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে নতুন করে কোভিড-১৯ সংক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধির বিষয়ে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি  বলেন, ‘আমি আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করব, মাস্ক ছাড়া কেউ  বাইরে যাবেন না। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে এবং প্রতিটি সভা বা সিম্পোজিয়াম, সেমিনার বা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সামাজিক দূরত্ব মেনে করতে হবে। যত দূর সম্ভব খোলা জায়গায় কর্মসূচি করতে হবে। ঘরের মধ্যে করলে করোনার প্রাদুর্ভাব আরো বেশি দেখা দেয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশে একটি মানুষও আর গৃহহীন থাকবে না। তার সরকার সবাইকে ঘর করে দেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষের কাছে বিদ্যুত্ পৌঁছে দিয়েছি। যেগুলো বাকি আছে, সেগুলোও করে দেব।’ তিনি স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা স্কুল-কলেজগুলো খুলে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন হঠাত্ করে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় আমরা এখন নয়, রোজার ঈদের পরে খুলে দেব।’ আর এই ফাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসবের মেরামত লাগবে, সেসব কাজ ইত্যবসরে তার সরকার করে দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পাঁচ দেশের প্রধান এসেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও ২৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে শুভেচ্ছাবার্তা আমরা পেয়েছি। এটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত সম্মানের।’