‘খোলা হাওয়ায় ছবি আঁকার নাম গান’ --------পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২১, ২২:৪৫

পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী বলেছেন, স্বর দিয়ে খোলা হাওয়ায় ছবি আঁকার নাম গান। সংগীতে ভাব আসল। ভাবই সংগীতে সংগীতে পার্থক্য গড়ে দেয়। বাংলাদেশ সংগীতের জন্য একটা রত্নখনি। এদেশে অনেক ভালো ভালো শিল্পী আছে। তাদের বাঁচিয়ে রাখা দরকার। কিন্তু বাংলাদেশের শিল্পীরা পরিশ্রম করেন না। তানপুরা নিয়ে গলা না সাধলে সেই শিল্পী সরস্বতীর বাহন হতে পারবে না। তিনি বলেন, শিল্পীরা যদি একটু দায়িত্ব নিয়ে পরিশ্রম করেন, তাহলে শুধু ভারত নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও ছাপিয়ে যাবে বাংলাদেশের শিল্পীরা।

সংগীত ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। গতকাল রবিবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশনের আয়োজনে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

যদি বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করে তবে বাংলাদেশে গান শেখাতে চান পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। তিনি বলেন, প্রথমে অনলাইনে ক্লাস করিয়ে সেখান থেকে ১০ জন শিল্পী বেছে নিয়ে তাদের সময় নিয়ে তালিম দিলে সেখান থেকেই বড় শিল্পীর সৃষ্টি হবে। চাই শুধু অধ্যবসায় ও ভক্তি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকে উত্সর্গ করে নতুন রাগ বেঁধেছেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। ঢাকায় তা পরিবেশনও করেছেন। রাগের নাম দিয়েছেন ‘মৈত্রী’।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০-২৫ দিন আগে আমাকে এই নতুন রাগ বাঁধার অনুরোধ জানান। তার অনুরোধে এই নতুন রাগ ‘মৈত্রী’ আমি কম্পোজ করেছি। বাংলাদেশের জন্যই করা। যা দুই দেশের মানুষকে বন্ধুত্বের বার্তা পৌঁছে দেবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ রাগ। তবে এতে রাগ ‘আভোগী’ ও সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁর রাগ ‘হেমন্ত’-এর গন্ধ আছে। বাংলাদেশের ৫০তম স্বাধীনতা দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ নিয়ে রচিত সংস্কৃত, হিন্দি ও বাংলা ভাষায় তিনটি নতুন গান এই রাগে পরিবেশন করা হয়েছে।

গান তিনটির মধ্যে সংস্কৃত গানটি রচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পৃথিবী বিখ্যাত দার্শনিক ড. অরিন্দম চক্রবর্তী, হিন্দি গানটি রচনা করেছেন সুস্মিতা বসু মজুমদার ও হিন্দি অধ্যাপক রবি বর্মণ। আর বাংলা গানটি রচনা করেছেন অজয় চক্রবর্তীর শিষ্য সুগায়ক অনল চ্যাটার্জি। তিন গানেরই সংগীতায়োজন করেছেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী।

অজয় চক্রবর্তীর পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায়। তার বাবা-মা দুই জনই বাংলাদেশের মানুষ ছিলেন। পরে চলে যান কলকাতায়। ২০১১ সালে পদ্মশ্রী পদকে সম্মানিত করা হয় পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীকে। রাজ্য, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে শাস্ত্রীয় সংগীতের ঘরানাকে বিদেশের মাটিতেও এক অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পী।