> মো.রিয়াদুল ইসলাম
ছোটবেলা থেকেই দাবার প্রতি ছিল আগ্রহ। ধীরে ধীরে খেলাও শিখে ফেলেন ছোট মামার কাছ থেকে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দাবা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পেয়েছেন সাফল্য— পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ দাবাড়ুর স্বীকৃতি। বলছি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ হূদয়ের কথা।
তিস্তার প্লাবন ভূমি ও বরেন্দ্র ভূমিতে গড়ে উঠা বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গীয় জেলা রংপুরের কাউনিয়ায় মোস্তাকিম বিল্লাহ হূদয়ের জন্ম। স্কুলজীবন থেকেই দাবার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় মোস্তাকিমের। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট মোস্তাকিমকে নিয়ে ছিল পিতা-মাতার ভিন্ন পরিকল্পনা। একসময় নিজ এলাকায় সকল দাবাড়ুকে হারিয়ে স্কুল জীবনেই কলেজের এক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পাওয়া চ্যাম্পিয়নের খেতাব তার আত্ববিশ্বাসকে আরো বাড়িয়ে দেয়। এরপর স্থানীয় ও আশেপাশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিজয় লাভ করেন। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা দাবা খেলায় পারদর্শী তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় ম্যাচ খেলেন। সবাইকে হারিয়ে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যাম্পিয়ন দাবাড়ুকে হারিয়ে ফেলে! অথচ মোস্তাকিম জানতো না যে চ্যাম্পিয়ন দাবাড়ুর সঙ্গে তিনি জিতেছেন। সেই থেকে শেখার নেশায় মুঠোফোনে দাবা সম্পর্কিত বিভিন্ন ভিডিও ও আর্টিকেল সূত্রে দাবায় দক্ষতা অর্জনে কাজ শুরু করেন। এসব ভিডিও ও আর্টিকেল তাকে দাবার ওপেনিং, মিডলগেম, এন্ডগেম, স্ট্যাটেজি, ট্যাকটিক্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে সহায়তা করে। ২০১৭ সালে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় দাবা প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে দলগত খেলায় হারলেও একক ক্যাটাগরিতে বিজয়ের খুব কাছ থেকে ফিরে আসে। ২০১৮ সালে ডিপার্টমেন্ট ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নিজ ডিপার্টমেন্টকে (সিএসটিই) চ্যাম্পিয়ন করেন। এরপর একক দাবা টুর্নামেন্টে আবার সেরা দাবা খেলোয়াড়ের গৌরব অর্জন করেন—যা সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। এরপর জাতীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শুরু করেন। চ্যাম্পিয়ন হন তানভীর সাজ্জাদ স্মৃতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়। এরপর কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত ‘জেলা দাবা টুর্নামেন্টে’ প্রথমে রানারআপ ও পরবর্তী সময়ে চ্যাম্পিয়ন হন। ২০১৯ সালে কুয়েটে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় সব ম্যাচে জয়ের রেকর্ড করেন মেধাবী মোস্তাকিম। ২০২০ সালে গোল্ডেন স্পোর্টিং ক্লাব আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অনলাইন দাবা প্রতিযোগিতায় তিনি সেরা ‘বিশ্ববিদ্যালয় খেলায়াড়’ হওয়ার খেতাব অর্জন করেন। এ বছর জাতীয় প্রথম বিভাগ লীগে রানারআপ হয় মোস্তাকিমের টিম ও বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহযোগিতায় ঢাকার সাভারে আয়োজিত ‘SCC Rapid Chess Tournament’-এ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
দাবা নিয়ে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার বিষয়ে মোস্তাকিম বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গ্রান্ড মাস্টার হতে চাই। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক খেলায় ভালো পুরস্কার পেয়ে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে চাই।’
