কোচের ভুল পরিকল্পনায় ফাইনালে হার

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২১, ২২:৩৮

নেপালে সাফ গেমস ফুটবলে বাংলাদেশ শেষবার ট্রফি সোনার পদক জয় করেছিল ১৯৯৯ সালে। সেই মাঠে এত বছর পর আরো একবার ট্রফি জয়ের সুযোগ পেয়েও বাংলাদেশ ফুটবল দল পারল না। ইরাকি কোচ শামির সাকির ট্রফি উপহার দিয়েছিলেন। পারলেন না ইংলিশ কোচ জেমি ডে। দেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশকে দারুণ একটা উপহার দেওয়ার সুযোগ এসেছিল ফুটবলাদের পায়ে। কিন্তু সেই সুযোগ লুফে নিতে পারেননি দেশের বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়েরা।

বাংলাদেশ, নেপাল, কিরগিজস্তান অলিম্পিক ফুটবল দল নিয়ে আয়োজিত তিন জাতির টুর্নামেন্ট ফাইনালে সোমবার রাতে বাংলাদেশ ১-২ গোলে নেপালের কাছে রানার্সআপ হয়েছে।

নেপালে ফাইনালে কেমন খেলে সেটা দেখার অপেক্ষায় ছিল বাংলার ফুটবল দর্শক। কাঠমান্ডুর দশরথে রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ফাইনাল। স্টেডিয়ামে ভরা দর্শক। বাংলাদেশের দর্শক টিভির পর্দায় চোখ রাখতে ফুটবলের হতশ্রী চেহারাটা দেখলেন। শুরুতেই ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলতে গিয়ে নেপালের আক্রমণের জোয়ারে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় কোচ জেমির সাজানো রক্ষণভাগ। নেপালকে কষ্ট করতে হয়নি। পুরো খেলাটা বাংলাদেশের ঘরেই আটকে ছিল। নেপালের গোল মুখে আক্রমণে যাওয়ার ছোটখাটো সাহসও দেখা গেল না। বাংলাদেশের ফুটবলারদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নেপাল টপাটপ গোল আদায় করল। ১৮ মিনিটে সনযোগ রায় ১-০ এবং ৪২ মিনিটে বিশাল রায় গোল করেন ২-০। ২২ মিনিটে দুই গোল হজম করে বাংলাদেশ।

প্রথম গোলের পরও পরিকল্পনায় বদল করেননি কোচ জেমি। এত দর্শকের সামনে একাধিক অনভিজ্ঞ ফুটবলারকে একাদশে নামিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলের ভাগ্য নিয়ে জুয়া খেলেছেন জেমি। বদলি খেলতে নেমে অভিজ্ঞ মাহবুবুর রহমান সুফিল গোল করেছিলেন খেলার ৮২ মিনিটে ১-২। ততক্ষণে বাংলাদেশের সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেছে। ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগ শেষ। দিন শেষের হিসাবে কোচ হারেননি, বাংলাদেশের প্রত্যাশাটা ধুলোয় মিশে গেছে। নেপাল টুর্নামেন্ট নিয়ে খুবই সাবধানি ছিল। তাদের প্রধানমন্ত্রী খেলা দেখেছেন। ঘরে ট্রফি রেখে দেওয়ায় হাসিমুখে তাদের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন তিনি।

অথচ সঠিক পরিকল্পনা করা হলে কোচ জেমি হয়তো ট্রফি দিতে পারতেন বাংলাদেশকে। অভিজ্ঞ ও সিনিয়র একাধিক ফুটবলারকে একাদশে নামাননি জেমি। অভিজ্ঞ ফুটবলারদের বদলে নতুন, অনভিজ্ঞ ও দশরথের মাঠে দর্শক চাপ নিতে পারে না এমন খেলোয়াড়দের মাঠে নামিয়ে দলের অর্ধেক শক্তি কমিয়ে দিয়েছেন জেমি। ট্রফি হারিয়ে কোচ এখন দেশের ঘরোয়া ফুটবলের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। লিগে খেলে নেপালে গিয়েছিল বাংলাদেশ। আর করোনার কারণে নেপালে লিগই হয়নি। শুধু অনুশীলন করিয়ে ট্রফি এনে দিলেন কোচ বাল গোপাল মহারজন।