সীতাকুণ্ডে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে জাহাজভাঙ্গা শিল্প

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০৬:০৭

গত কয়েক বছর লোহার বাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙ্গা শিল্প। বেড়েছে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি। বিগত বছরের চেয়ে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা।

সরেজমিনে বিভিন্ন জাহাজ ভাঙ্গা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সলিমপুর ১০ নং ইউনিয়ন থেকে সলিমপুর ৭নং ইউনিয়ন পর্যন্ত এলাকাতে শতাধিক শিপব্রেকিং ইয়ার্ড আছে। তবে নানা কারণে অনেকগুলো ইয়ার্ডে কখনো জাহাজ ভাঙ্গা হয়নি। ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে মাত্র ৬০টি ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ ভাঙ্গা হচ্ছিলো। বিগত ৫/৬ বছরে হঠাৎ লোহার বাজারে মন্দাভাব দেখা দিলে এই শিল্পের মালিকরা বেশ লোকসানের সম্মুখীন হন। বাড়ে ঋণের বোঝা। বন্ধ হয়ে যায় অর্ধেকের মতো ইয়ার্ড।

বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র ৩০টি ইয়ার্ড। তবে স্ক্র্যাপ জাহাজের আমদানি বাড়ায় আবারো কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে শিপ ইয়ার্ডগুলো। মালিকরা আবার লাভের মুখ দেখায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে জাহাজভাঙ্গা শিল্প। বিগত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেশি সংখ্যক স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি শুরু করেছেন মালিকরা।

কে আর গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সেকান্দর হোসেন টিংকু বলেন, ‘আমার ইয়ার্ড সচল রাখার জন্য নিয়মিত ব্যবসা করে গত বছর ২৫টি জাহাজ আমদানি করি। গত কয়েক বছরের তুলনায় এখন ব্যবসা অনেক ভালো।’

বাংলাদেশ শিপব্রেকিং এন্ড রি-সাইক্লিং এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য ও. এস. এল. গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লোকমান বলেন, ‘স্ক্র্যাপ জাহাজের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণ শিল্পের কাঁচামাল লোহার চাহিদা স্বাভাবিক থাকার কারণে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি সরকার বছরে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব পাবে।’

ইত্তেফাক/অনি/নূহু