বইমেলায় খুদে লেখক

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২১, ২০:৪৫

সুন্দর একটি দৃশ্য দেখার পর যেমন চিত্রশিল্পী তার ছবি এঁকে ফেলেন, তেমনি সুন্দর কোনো বই পড়তে পড়তে অনেকেই হয়তো ভাবে, ইস, আমিও যদি এমন একটি বই লিখতে পারতাম। কিন্তু  সবাই লিখতে পারে না। আর যদি মানুষটি অল্প বয়সী হয় তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু বয়সকে তোয়াক্কা না করে এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় চমক দেখাতে চলেছে এই খুদে লেখক। সে হতে চলেছে বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল বা সেলিনা হোসেনদের পথের পথিক। ওর নাম ফাতিহা আয়াত। বয়স নয় বছর। থাকে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে। তার বইয়ের নাম ‘ডায়েরি অব অ্যা মুসলিম কিড’। বইটি প্রকাশ করেছে অনন্যা প্রকাশনী। বইটি রকমারি ডটকমের মাধ্যমে মেলা শুরুর আগেই প্রি-অর্ডার ভিত্তিতে হাজার কপি বিক্রির রেকর্ড গড়ে ফেলেছে।

ফাতিহা প্রতিনিয়ত নানা বিষয়ে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছে, কথা বলেছে পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে এবং শরণার্থীদের নিয়ে। বক্তব্য দিয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফেসবুকে তার ফলোয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার লাখের অধিক। এটি ফাতিহার তৃতীয় বই। এর আগে আমাজন থেকে ফাতিহার দুটি বই প্রকাশিত হলেও বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে তা দুর্লভ ছিল। ফলে বাংলাদেশ থেকে এটিই ফাতিহার প্রথম বই। বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছে ফাতিহা নিজেই। ফাতিহা তার বইয়ে দেখিয়েছে ইকরা নামে নয় বছর বয়সী এক শিশুকে—যে বেড়ে উঠেছে নিউ ইয়র্কের শহরতলিতে এক দুর্বিসহ বাস্তবতায়। স্কুলের বন্ধুরা তাকে প্রতিনিয়ত অসম্মান করছে। অপমান আর গঞ্জনার ক্রমাগত আঘাতে ছোট হয়ে আসে ইকরার পৃথিবীটা। একটু দম ফেলতে সে ছুটে যায় শহরের বাইরে র্যাঞ্চ হাউজে। সেখানে অনেক কিছু তার জন্য অপেক্ষা করে। একটি ঘোড়া, যার নাম বিলকিস সেও ইকরার কানে কানে কিছু বলে। সেখান থেকে ফিরে এসে তার কি মুক্তি মিলবে এই অমর্যাদাকর জীবন থেকে নাকি মুখ থুবড়ে পড়বে আরো বেশি গ্লানি ও বিষণ্নতার মাঝে। এমনই সব বিষয় তুলে ধরেছে ফাতিহা। বইটি মূলত একটি ফিকশনধর্মী বই, যেখানে কল্পনা আর বাস্তবতার নিরিখে সে লিখেছে কঠিন বাস্তবতায় টিকে থাকার কথা। ফাতিহা আয়াত জাতিসংঘের সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশি বক্তা হিসেবে রেকর্ড করেছে।