চলতি বছর দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনিকল এলাকায় গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম আখ রোপণ হচ্ছে। এতে আগামী মাড়াই মৌসুম হুমকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর চিনিকলের কৃষি খামারের জমিতে গড়ে প্রায় দেড় হাজার একর জমিতে আখ রোপণ করা হয়। কিন্তু চিনিকল কর্তৃপক্ষ এ বছর আখচাষ করেছে মাত্র ৯৩৯ একরে। আর এলাকার আখচাষিরা আখচাষ করেছেন মাত্র ২ হাজার ৭৪০ দশমিক ৫০ একরে, যা গত বছরের তুলনায় কম। গত রোপণ মৌসুমে অর্থাত্ ২০২০-২১ রোপণ মৌসুমেও চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও আখচাষিরা মিলে আখ চাষ করেছিল ৮ হাজার ৫৩২ একর জমিতে।
আখচাষি ওমর আলী, মো. সেলিম আল মাহমুদ, সোহরাব হোসেনসহ অনেকে জানান, আখ একটি দীর্ঘ মেয়াদি ফসল। যার ফলন পেতে প্রায় দেড় থেকে দুই বছর লেগে যায়, তাছাড়া কেরু চিনিকল কর্তৃপক্ষ চাষিদের যে সুবিধা দিত তা এখন আর দিচ্ছে না। এখন এক বিঘা জমিতে বছরে সবজি তিন বার ও ধান দুই বার পাওয়া যাচ্ছে। আর দামও বেশ ভালো পাওয়া যায়। তবে কম সময়ে বেশি ফলন আখের জাত উদ্ভাবন করতে পারলে আখ রোপণ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। কেরু চিনিকলের মহা ব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. গিয়াস উদ্দীন জানান, ইতিমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি চিনিকলে মাড়াই বন্ধের কারণে স্ব স্ব এলাকার চাষিরা বেশ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে গেছেন। তাছাড়া চাষিদের ঋণ হিসেবে যে প্রণোদনা দেওয়া হতো তাও এবার দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে চাষিদের আগের সুযোগসুবিধা দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আখচাষের সোনালি অতীত আবার ফিরে আসবে।
