বিখ্যাতদের সুইসাইড নোট!

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪১

পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত মানুষের জীবনের শেষ হয়েছে আত্মহত্যার মাধ্যমে। কারো কারো আত্মহত্যার ধরন ছিল ভিন্নরকমের। আবার কেউ কেউ আত্মহত্যার আগে লিখে গেছেন সুইসাইড নোট বা চিঠি। বিখ্যাত কয়েকজনের সুইসাইড নোট তুলে ধরা হলো এই আয়োজনে—

মেরিলিন মনরো

স্বর্ণকেশী এই সৌন্দর্যের রানি তার হাসির ঝলকানিতে, অপার সৌন্দর্যের মুগ্ধতায়, সুমিষ্ট কণ্ঠের আবেশে, তীক্ষ্ম চাহনিতে মোহবিষ্ট করে গেছেন সমগ্র বিশ্বের লাখ লাখ তরুণকে। এখনো তাকে সর্বকালের সেরা আবেদনময়ী তারকা ও অভিনেত্রী হিসেবে স্মরণ করা হয়।

এই অভিনেত্রী অতিমাত্রায় মাদক সেবন করতেন। এমনকি একটা সময় ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় তাকে মেকআপ করা হতো। শেষদিকে একের পর এক ব্যর্থ সিনেমা। বিষণ্নতার কারণে চার সপ্তাহ হাসপাতালে কাটান। সহকর্মীরা কাছে ভিড়তেন না। মন যখন তখন পরিবর্তন হতো। কড়া ঘুমের ঔষধ খেতেন ঘুমানোর চেষ্টায়। ১৯৬২ সালে তিনি তার বেডরুমে আত্মহত্যা করেন। তার শেষ কথা ছিল—প্যাটকে বিদায় জানাও, প্রেসিডেন্টকে বিদায় জানাও এবং বিদায় জানাও নিজেকে। কারণ তুমি চমত্কার।

তিনি তার মেন্টরের কাছে একটি নোট লিখেছিলেন—আমি এখন পরাজিত। কোনোকিছুতেই মনোযোগ দিতে পারছি না। ইচ্ছেশক্তি ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। আমি উন্মাদের মতো বলছি, মনে হয় আমি উন্মাদ হয়ে যাচ্ছি। আমি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই, মনোনিবেশ করতে চেষ্টা করি। কিন্তু মনঃসংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হচ্ছি। মনে হচ্ছে মানব প্রজাতিতে আমার কোনো অস্তিত্বই নেই।

 

কার্ট কোবেইন

আমেরিকান রকব্যান্ড নির্ভানার মূল গায়ক, গিটারিস্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯৯৪ সালের ৫ এপ্রিল কোবেইন আত্মহত্যা করেন। আনুমানিক মৃত্যুর ৩ দিন পর ৮ এপ্রিল কোবেইনের লেক ওয়াশিংটন বুলেভার্দের বাড়িতে মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃত্যুর আগে ৬ পৃষ্ঠার এক লম্বা চিঠি রেখে গিয়েছিলেন তিনি। তার সুইসাইড নোটটিতে ছিল—তোমাদের সামাজিক স্বাধীনতা আর বন্ধনের সঙ্গে জড়িত নৈতিকতাগুলো চিনে ওঠার পর থেকে, পাংক রক ওয়ান জিরো ওয়ানের কোর্সের সময় অবধি যেসব সতর্ক বার্তা, সাবধান বাণী পেয়েছিলাম, তার সবই ফলে গেল। বহুকাল হয়ে গেল, মিউজিকে ডুবে থাকা, মিউজিক নিয়ে পড়ে-লেখে মিউজিক করা কিংবা গান বানানোর যে উন্মাদনা ছিল তার ছিঁটেফোটাও আমি আর অনুভব করি না। এই অনুভূতি শূন্যতা নিয়ে এক শব্দাতীত অপরাধবোধ কাজ করে আমার মধ্যে। বিগত সময়ের প্রতিটি চিঠি আর ভালোবাসার জন্য তোমাদের সবাইকে আমার যন্ত্রণাবিদ্ধ নরক আর ঘিনঘিনে পাকস্থলির গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই। আমি আদতে এক লক্ষ্যভ্রষ্ট বিষণ্ন শিশু। ভেতরের সেই প্রচণ্ড আগুন আর আমার নেই। আর তাই মনে রাখা দরকার, উবে যাওয়া থেকে পুড়ে যাওয়া শ্রেয়।

অ্যাডলফ হিটলার

শত্রুদের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার আগেই নিজের স্ত্রী ইভাকে নিয়ে আত্মহত্যা করেন হিটলার। সেখানেই নিজের সুইসাইড নোট লেখেন তিনি। সেটাতে লেখা ছিল—

আমি নিজে এবং আমার স্ত্রী পদচ্যুত ও আত্মসমর্পণের হীনতা থেকে মুক্তি পেতে মৃত্যুকে বাছাই করলাম। নিজের কাজের জায়গা যেখানটায় ১২ বছর ধরে প্রতিদিন আমার মানুষদের জন্য কাজ করেছি আমি সেখানটায় তাত্ক্ষণিক পুড়ে মরতে চাওয়া পুরোপুরি আমাদের ইচ্ছে।

 

ভার্জিনিয়া উলফ

নিজের অন্যতম সেরা লেখা মিসেস ডেলোয়ে, টু দ্য লাইট হাউজ ও অরলান্দোর মাধ্যমে পুরোবিশ্বের কাছে পরিচিত হয়ে আছেন ভার্জিনিয়া উলফ। তবে দুনিয়াজোড়া পরিচিতি পেলেও সবসময় মানসিক সমস্যার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিল এই লেখককে। মনোরোগে আক্রান্ত হতে হতে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আর সেই বিরক্তি, ভয় আর হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আর সেটার আগে লিখে যান ৪টি লাইন—আমি নিশ্চিতভাবে অনুভব করছি যে, আমি আবার পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি অনুভব করছি যে, ওরকম আরেকটি ভয়াবহ সময়ের ভেতর দিয়ে যেতে পারবো না আমরা এবং আমি এবার সেরে উঠবো না। আমি কণ্ঠ শুনতে আরম্ভ করেছি।

হান্টার এস থম্পসন

আমেরিকার সর্বকালের সেরা ঔপন্যাসিক হান্টার এস থম্পসন আত্মহত্যা করার আগে সুইসাইড নোট লিখে রেখেছিলেন। শেষ লেখাটি লেখার ৪ দিন পরই নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন এই লেখক। তিনি এই লেখাটির শিরোনাম দেন ফুটবল খেলার মৌসুম শেষ। মূলত তিনি তার স্ত্রী অনিতাকে উদ্দেশ্য করেই এটি লেখেন।  থম্পসন নোটে লিখেছিলেন—আর কোনো খেলা অবশিষ্ট নেই। আর কোনো বোমা নেই। চলতে থাকা নেই। কোনো মজা নেই। সাঁতার কাটা নেই। ৬৭, ৫০। এরপরও ১৭টি বছর। আমার চাওয়ার অথবা দরকারের চাইতেও ১৭টি বাড়তি বছর। বিরক্তিকর। আমি সবসময়ই উদ্যম। কারো জন্য কোনো আনন্দ নেই। ৬৭, তুমি লোভী হয়ে যাচ্ছো। বুড়োমি দেখাও। শান্ত হও-এটা ব্যথা দেবে না।