রেল সংযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রসঙ্গে

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২১, ২১:৩৫

আমরা বগুড়া জেলার বাসিন্দা। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম যাতায়াতে আমাদের একমাত্র মাধ্যম হলো বাস। উন্নয়নের ধারায় লোক চলাচল, পণ্য পরিবহন সবকিছু বৃদ্ধি পাওয়ায় রাস্তায় বাস-ট্রাকের সংখ্যা বেড়েছে, সবসময় যানজট লেগেই থাকে—এতে সময় ও অর্থের অপচয় হয়। সুতরাং শিল্প শহর হিসাবে বগুড়ার যাতায়াতব্যবস্থা ত্রিমুখী হওয়া বাঞ্ছনীয়। প্রথমত উন্নত বাস সার্ভিস যা অব্যাহত আছে। দ্বিতীয়ত সরাসরি রেল যোগাযোগ এবং তৃতীয়ত অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগে বগুড়া এয়ারপোর্টের রানওয়ের বর্ধিতকরণ ও আধুনিকায়ন। রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে যদিও শান্তাহার থেকে বগুড়া হয়ে লালমনিরহাট পর্যন্ত যে মিটারগেজ রেলপথ আছে, সেটি ব্যবহার করে ঢাকাসহ সিলেট বা চট্টগ্রাম যেতে হলে অনেক ঘোরা পথে সময় বেশি লাগে এবং অর্থের অপচয় হয়। সুতরাং বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক সমান্তরাল বগুড়া পর্যন্ত রেললাইন স্থাপিত হলে লালমনিরহাট থেকে ঢাকা ভায়া বগুড়া হয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে, দ্রুত রাজধানীতে যোগাযোগ তৈরি হলে রেলপথে যাত্রী এবং কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে। এতে পরিবহন খরচ কমে গেলে সতেজ সবজি ও কৃষিপণ্য সুলভে পাওয়া যাবে। অন্যদিকে শান্তাহার থেকে লালমনিরহাট ভায়া বগুড়া হয়ে মিটারগেজ রেললাইনকে মিশ্র গেজ রেললাইনে রূপান্তর করা হলে বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো সরাসরি মংলা বন্দরকে ব্যবহার করতে পারবে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসার লাভ করবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। আরেকটি বিষয়—বগুড়া পুরাতন জেলাগুলোর একটি এবং উত্তরবঙ্গের কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় এখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে উত্তরবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থার আরো উন্নতি ঘটবে। বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

মো. সাঈদ হাসান খান

নারুলী, ওয়ার্ড নম্বর ২০, বগুড়া