সুয়েজ খালের বিকল্প নিয়ে ফের কথা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২১, ২০:৫৯

রুট-ম্যাপে ইসরাইল

বিশ হাজার কনটেইনার ভর্তি এভার গিভেন নামের দানবাকৃতি জাহাজটির মাথা যখন ২৩ মার্চ সুয়েজ খালের তীরে বালিতে আটকে যায়, তার পরিণতি যে কত গুরুতর হতে পারে মিশর হয়তো তাত্ক্ষণিকভাবে তা বোঝেনি। কিন্তু পরের ছয় দিন দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চেষ্টায় জাপানি মালিকানাধীন জাহাজটিকে উদ্ধার করে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি চালু করার পর পাহাড়সমান লোকসানের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। বিবিসি

মিশরের একটি টিভিতে এক সাক্ষাত্কারে সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষে চেয়ারম্যান ওসামা রাবি বলেছেন, জাহাজটিকে ভাসানোর খরচ এবং ছয় দিন ধরে খালটি বন্ধ থাকার জন্য ক্ষতির পরিমাণ ‘১০০ কোটি ডলার বা তারও বেশি হতে পারে।’ জাপানি জাহাজ মালিকের কাছ থেকে এই ক্ষতি দাবি করা হবে কি না, তা অবশ্য খোলাসা করেননি তিনি। কিন্তু টাকার এই লোকসানের চেয়ে অন্য আরেকটি বিষয় এখন হয়তো মিশরের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর সেটি হলো, দুর্ঘটনার পর নতুন করে সুয়েজ খালের বিকল্প একটি খালের প্রসঙ্গ নিয়ে কথা শুরু হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস ইনসাইডার নামে একটি পত্রিকায় ১৯৬৩ সালের একটি গোপন সরকারি নথি প্রকাশ করা হয় যেখানে সুয়েজ খালের বিকল্প হিসেবে ইসরাইলের ভেতর দিয়ে একটি খাল তৈরির পরিকল্পনার কথা ছিল। আমেরিকার বাণিজ্য দপ্তরের গোপন ঐ নথি ১৯৯৬ সালে আংশিকভাবে প্রকাশ করা হয়।  আমেরিকার ঐ গোপন পরিকল্পনায় ১৬০ মাইল লম্বা একটি খাল খননের জন্য ইসরাইলের নেগেভ মরুভূমির তলায় ৫২০টি পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ করার কথা বলা হয়েছিল।

বিজনেস ইনসাইডারের রিপোর্টটি ইসরাইলের মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। সেখানে তেমন একটি খাল তৈরির সম্ভাব্যতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। লন্ডনের দৈনিক গার্ডিয়ান বৃহস্পতিবার তাদের এক রিপোর্টে ব্রিটেনের সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে বলেছে যে সুয়েজ খালে দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইল এবং মিশরের সীমান্ত দিয়ে নতুন একটি খাল তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে জাতিসংঘের বাণিজ্যিক-রুট সম্পর্কিত কমিটিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গার্ডিয়ানের রিপোর্ট বলা হয়েছে, কয়েক বছর আগে জাতিসংঘ টানেল তৈরিতে বিশেষজ্ঞ একটি কোম্পানিকে দিয়ে সুয়েজের বিকল্প একটি খালের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছিল, যেখানে ঐ কোম্পানি বলেছিল যে, পাঁচ বছরে এমন একটি কৃত্রিম খাল তৈরি করা সম্ভব।