তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক শহীদুল হক মুকুল। দীর্ঘদিন ধরে পোশাক রপ্তানির সঙ্গে জড়িত এই সফল উদ্যোক্তা বিজিএমইএর বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনেও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত অ্যাডামস অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। আগামীকাল রবিবার অনুষ্ঠিতব্য বিজিএমইএর নির্বাচনেও তিনি পরিচালক প্রার্থী।
ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, করোনা বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পোদ্যোক্তাদের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। একদিকে শ্রমিকের বেতন পরিশোধ অন্যদিকে শিল্প টিকিয়ে রাখা নিয়ে এখন বড় দুশ্চিন্তা। নতুন করে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কঠোর নিয়মের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালু রাখতে হবে। অন্যদিকে রপ্তানি আদেশও প্রত্যাশিত নয়।
আমাদের মূল লক্ষ্য হলো—‘বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কারখানা যেন বন্ধ না হয় এবং কোনো শ্রমিক যেন বেকার না হয়। পোশাক মালিকদের যেভাবেই হোক শ্রমিকের বেতন-ভাতা দিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সময়োপযোগী কিছু প্যাকেজ সুবিধা দিয়েছেন, যার জন্য এখনো এই শিল্প টিকে আছে। করোনা এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তাই প্যাকেজগুলোর সময় বৃদ্ধি করা, শ্রম আইন কয়েক বছরের জন্য শিথিল করা, বিভিন্ন দপ্তরের হয়রানি বন্ধ করা, রপ্তানিযোগ্য শিল্পের ভ্যাট মুক্ত রাখার জন্য আমরা কাজ করব। বিশেষত বন্দর, শুল্ক বিভাগসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে বসে ব্যবসা যাতে সহজ করা যায়, সেজন্য কাজ করব।’
করোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে হতে পারে। এজন্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তিতে যেতে হবে। সেজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের অনেক কাজ করার আছে। চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আমাদের জন্য কিছু সম্ভাবনাও রয়েছে। সেসব সুযোগ ও সম্ভাবনা কীভাবে আমরা ধরতে পারি, সেজন্য কাজ চলবে।
