রামগতিতে রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২১, ২১:৩৮

জোয়ারে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল

নজরুল ইসলাম, রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফসলের মাঠে নোনা পানি ঢুকে যাওয়ায় বিনষ্ট হতে চলেছে ক্ষেতের উঠতি সয়াবিন, বাদাম, মরিচ, ডালজাতীয় ফসলসহ মাঠের রবিশস্য। দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাবে বুধ ও বৃহস্পতিবার বিকালে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আবাদ করা ফসল ওঠাতে না পারলে পুঁজি হারিয়ে বড় রকমের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিনসহ রবিশস্যের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন, ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম, ৭৯০ হেক্টর জমিতে মুগডাল, ৪০০ হেক্টর জমিতে মরিচ, ৪০০ হেক্টর জমিতে ফেলনডাল, ১৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলু, ৫৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা এবং ২ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে ঢ্যাঁড়শ, সরিষা, সূর্যমুখী, বোরো, রসুন, পেঁয়াজ, গম, মসুর ডালসহ অন্যান্য রবিশস্যের আবাদ করা হয়েছে।

আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বালুরচর, সোনালীগ্রাম, সুজনগ্রাম, জনতা বাজার, মুন্সীরহাট, বাংলাবাজার, সবুজগ্রাম, আসলপাড়া, পূর্ব আলেকজান্ডার, চর আলগী ইউনিয়নের চরটগবী, গাবতলী, দক্ষিণ চরআলগী, চররমিজ ইউনিয়নের চর গোসাই, চর রমিজ, বড়খেরি, চর গাজী এবং চর আব্দুল্লাহ ইউনিয়নের চর গজারিয়া, তেলিরচর, চর সেবাজ এলাকার নিম্নাঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির রবিফসল প্লাবিত হয়েছে। তলিরচর, গজারিয়া ও আবদুল্লারচরের কবির, মিলাদ, সহিজল মাঝিসহ কয়েক জন কৃষক জানান, গত দুই দিন ধরে নোনা পানির অস্বাভাবিক জোয়ারে পুরো চর এলাকা ডুবে যায়। এ সময় সয়াবিন, চিনাবাদাম, মরিচসহ সব ধরনের রবি ফসল প্লাবিত হয়। লবণাক্ততার কারণে এসব জমির ফসল লালচে হয়ে মরে যেতে পারে।

চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী জানান, এলাকার কয়েক শ একর রবি ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া পানি বসতঘরে ঢুকে যাওয়ায় মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চরআব্দুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন মঞ্জুর জানান, জোয়ারে গজারিয়া, তেলিরচর, মাজেরচর, আবদুল্লারচরের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার একর জমির রবিশস্য নোনা পানিতে তলিয়ে যায়। লবণাক্ততার কারণে এসব জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতির হওয়ার আশঙ্কা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার বলেন, মেঘনা নদীতে নোনা পানির অস্বাভাবিক জোয়ারে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী এলাকার রবি ফসলের খেত প্লাবিত হয়েছে। এতে ঐসব এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে তিন-চার দিন পর কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে তা নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।