শিশুর সুরক্ষা ও গণমাধ্যম

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০১:১৭

 

কবির ভাষায় ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে’। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যত্। অথচ তারাই নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। ‘শিশু সুরক্ষা আইন’ তাদের সুরক্ষা দিতে পারছে না। শিশু নির্যাতন, যৌন হয়রানি, নারী নির্যাতন, শিশু ও মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ সরকারের নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি জেলায় নারী ও শিশু বিষয়ক বিশেষ আদালত রয়েছে। একজন জেলা জজ এ আদালতের বিচারকের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। তার পরও শিশু নির্যাতন ও যৌন হয়রানি, নারী নির্যাতন, শিশু ও মানব পাচাররোধ বন্ধ হচ্ছে না। শিশু ও মানব পাচাররোধে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম।

বাংলাদেশের গণমাধ্যম (সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম) ও গণমাধ্যম-কর্মী সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁরা শিশু ও  মানব পাচাররোধে নানা ধরনের  প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন। শিশু অধিকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শিশুর শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা। এই দুটি বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে প্রায় সকল মাধ্যমেই। তারপরও কথা থেকে যায়। যদিও সম্প্রতি আমরা শিশুদের প্রতি মনোযোগী টিভি চ্যানেল দেখতে পাচ্ছি; কিন্তু এটা সত্য যে, জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত কোনো দিবসকে কেন্দ্র করেই অধিকাংশ সময় আবর্তিত হয় শিশুদের জন্য সংবাদ। সাধারণত দুর্ঘটনা, অপহরণ, খুন, ধর্ষণের মতো কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে নারী ও শিশু সংবাদ অথবা সড়ক দুর্ঘটনা বা পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর খবর ছাড়া পত্রিকার পাতায় এবং অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের সংবাদে নারী ও শিশুদের বিষয় তেমন স্থান পায় না বললেই চলে।

টেলিভিশনগুলোতে বিনোদন এবং শিক্ষামূলক কিছু অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে শিশুরা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে নিজেদের মতামত তুলে ধরার সুযোগ পায় খুবই কম। শিশুদের বিষয় সম্পর্কিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব খবর বা তথ্যসমূহ প্রায়শ তাত্ক্ষণিক কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে পরিবেশিত। গবেষণা বা গভীর অনুসন্ধান ছাড়াই শিশুদের জন্য শিশুদের বিষয় সম্বলিত সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত বা প্রচারিত হয়ে থাকে। এছাড়া অনলাইন মিডিয়াগুলোতে শিশুদের জন্য সংবাদ প্রচারে আলাদা কোনো ডেস্ক এখনো তেমন দেখা যায় না। শিশুদের বিকাশের জন্য বা শিশুদের পাচারসহ অন্যান্য সহিংস নির্যাতনের বিষয়ে সচেতনতার জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশু ও নারীদের জন্য আদালতে বিশেষ পরিবেশ নেই এবং এ বিষয়ে আমাদের গণমাধ্যম বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতিবেদন বা উচ্চারণ খুবই কম। শিশু আইনের বাস্তবায়নে আলাদা আদালত কক্ষ ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু আইন ও মানব পাচার আইনের মামলাসমূহ শেষ করতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। সে বিষয়ে গণমাধ্যমসমূহের সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।

যেহেতু সংবাদমাধ্যম শিশুদের মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে, সেহেতু শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রয়োজন বড়দের চেয়েও বেশি। সুতরাং শিশুসংক্রান্ত সকল সংবাদে বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে সংবেদনশীলতা কাম্য। এছাড়া নারী ও শিশু বিষয়ক সংবাদে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং সরকার ও সমাজের নেতৃস্থানীয় মানুষের মতামত ও প্রতিক্রিয়া পরিবেশনে সতর্ক ও যত্নবান থাকা প্রয়োজন। শিশু সাংবাদিকতাকে উত্সাহিত করা এবং তার জন্য ক্ষেত্র তৈরি করা দরকার। দরকার জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের মূলনীতি অনুযায়ী সকল ক্ষেত্রে শিশুর অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।

ঢাকা