সাঈদ চৌধুরী
খুব ভালো লাগছে ইদানীং একটা ব্যাপার দেখতে পেয়ে। গ্রামের রাস্তার মোড়ে মোড়ে একটি করে সোলার ল্যামপপোস্ট দেওয়া হচ্ছে। একটি খুঁটি, একটি ছোট্ট সোলার প্যানেল খুঁটির ওপরেই এবং একটি লাইটে নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হচ্ছে তেমনি বেঁচে যাচ্ছে বিদ্যুত্, তেমনি বেঁচে যাচ্ছে শক্তির ক্ষয়, সঙ্গে সঙ্গে কমে যাচ্ছে গ্রিন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী তাপ।
বার বার সাসটেইনেবল বা টেকসই উন্নতির কথা বলা হলেও তার প্রায়োগিক ব্যাপারটি যখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছিল তখন এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া। ফ্যাক্টরিগুলোর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সোলার ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও গৃহে বা বড় কোনো স্থাপনায় এখনো সোলার ব্যবহারে তেমন নিয়মের বাধ্যবাধকতা নেই। বাসভবনের আয়তন অনুযায়ী একটি বাড়ির মোট বিদ্যুত্ ব্যবহারে এক-দুই শতাংশ সোলার সিস্টেম ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আনা যেতে পারে ।
টেকসই সবুজায়নের জন্য এখনই প্রতিটি বাড়ির সিকিউরিটি লাইট ও বারান্দা বা বাইরের লাইটের ক্ষেত্রে সোলার লাইটের ব্যবহার বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। সাধারণত বাড়ির ভেতরের লাইটগুলো সারা রাত ব্যবহার না হলেও বাইরের লাইটগুলো সারা রাত ধরেই ব্যবহার হয়ে থাকে। এই ব্যবহারের ফলে নির্দিষ্ট পরিমাণের বিদ্যুত্ কোনোভাবেই সাশ্রয় করা সম্ভব হয় না বরং মনের ভুলে সারা দিন জ্বলে থেকে বিদ্যুতের অপচয় হয় আরো দ্বিগুণ।
রাস্তার ডিভাইডার ও ফ্লাইওভারের ওপরের বাতিগুলোও সোলারের আওতায় নিয়ে আসা যেতে পারে। অটোমেটিক সেন্সর সিস্টেম করে দিলে সোলার লাইটগুলো শুধু অন্ধকারে জ্বলার নিশ্চয়তাও তৈরি করা সম্ভব। যদি বাইরের লাইটগুলো, রাস্তার ল্যাম্পপোস্টগুলো সোলারের ছোট্ট প্যানেল ও লাইটের আওতায় আনা যায় তবে বিদ্যুত্ যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি কমবে তাপ ও কার্বন নিঃসরণ। বিদ্যুত্ সাশ্রয় ও ব্যবহারের সুবিধার জন্য এ বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
গাজীপুর
