মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার মেঘনা ও শাখা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এ বছর বাঙ্গির ভালো ফলন হয়েছে। মাঠ জুড়ে যেন বাঙ্গির বিছানা। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সবুজ ও হলুদ বাঙ্গি। নদীর চর জুড়ে বাঙ্গির সুঘ্রাণ। চাষিরা এখন বাঙ্গি সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কম খরচে চাষাবাদ করে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি তারা। বর্তমানে এসব বাঙ্গি জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে অন্য জেলাতেও। গত কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে জেলার দাউদকান্দি, হোমনা, মেঘনা, তিতাস, মুরাদনগর, চান্দিনা ও দেবিদ্বার উপজেলার কৃষকেরা বাঙ্গি চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। নদীর চর এলাকায় ঘুরে বাঙ্গি চাষাবাদের এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
মেঘনা উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের চাষি বশির মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় শতক জমিতে বাঙ্গির চাষ করেছেন তিনি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। গত কয়েক দিনে তিনি প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার বাঙ্গি বিক্রি করেছেন। তিনি বলছেন, বাকি বাঙ্গি আরো ৬০-৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। ঐ গ্রামের চাষি মোসলেহ উদ্দিন জানান, চলতি বছর তিনি ১৮৫ শতক জমিতে বাঙ্গি চাষ করেছেন। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বাঙ্গি বিক্রি করেছি। আরো অনন্ত দেড় লাখ টাকার বাঙ্গি বিক্রি করতে পারব। দাউদকান্দি উপজেলার টামটা গ্রামের চাষি মহিউদ্দিন বাবুল জানান, বাজারে বাঙ্গির দাম ভালো। ব্যবসায়ীরা এসব বাঙ্গি কিনে তা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে।
ঢাকার কাওরান বাজারের ফজলু মিয়া, আলী আহমদ, বারেক মিয়াসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, মেঘনা নদীর চর ও আশপাশের এলাকার বাঙ্গি নদীপথে যে কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া সহজ। তাই বাঙ্গি কিনতে তারা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে সরাসরি এই চরে চলে আসেন। এ এলাকার বাঙ্গি আকারে বড় ও সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা বেশি। মেঘনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিমা খাতুন জানান, বেলে-পলি মাটিতে বাঙ্গির আবাদ ভালো হয়। আর এ কারণে মেঘনার চরাঞ্চলের কৃষকেরা বাঙ্গি চাষে সফল হয়েছেন।
