কসবায় বিদ্যুত্ বিভ্রাটে জনজীবন অতিষ্ঠ

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২১, ২২:০৮

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা

কসবায় ঘনঘন বিদ্যুত্ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের ভেলকিবাজী ও ভোল্টেজ ওঠা-নামার কারণে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার লক্ষাধিক গ্রাহকের জন্য দুটি সেবাকেন্দ্র রয়েছে। একটি কসবা উপজেলা সদরে এবং অপরটি কসবা পশ্চিমাঞ্চল খাড়েরায়। দুই সেবাকেন্দ্রেই দুই জন করে ডিজিএম ও এজিএম রয়েছেন। গত দুই মাস যাবত্ প্রতিদিন গড়ে ২০/২৫ বার লোডশেডিং হয় বলে গ্রাহকরা জানিয়েছেন। এতে উপজেলার কুটি, নয়নপুর, খাড়েরা, গোপিনাথপুর, চারগাছ প্রভৃতি অঞ্চলের ছোট ছোট শিল্পকারখানা, মাছের হ্যাচারি ও এগ্রো ফিসারিজ শিল্পে উত্পাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কুটি এলাকার ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী মুন্সি রুহুল আমিন টিটু বলেন, প্রতিদিন তাদের দোকানে নতুন ফ্রিজ, টেলিভিশন, প্রেসার কুকার, ব্ল্যান্ডার, কম্পিউটার ইত্যাদি জিনিসপত্র বিদ্যুিবভ্রাট ও হঠাত্ ওঠা-নামার ফলে নষ্ট হলে মেরামতের জন্য আনছেন ভুক্তভোগীরা। কসবা পৌর এলাকার গৃহিণী হুসনেআরা বেগম বলেন, ঘনঘন বিদ্যুিবভ্রাটের ফলে ঘরের অনেক ইলেকট্রিক জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় মানুষ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। কাকে বলব সমস্যার কথা। প্রতিদিন একটানা তিন/চার ঘণ্টা বন্ধ রাখলেও পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয় না। কায়েমপুর গ্রামের বিউটি আক্তার জানান, গত দুই মাস যাবত্ বিদ্যুত্ বিভ্রাট ও হালকা বাতাস হলেই লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়। কসবা সদরের সাহাপাড়ার গৃহবধূ তাছলিমা আক্তার বলেন, বিদ্যুত্ চলে গেলে বারবার ফোন করলেও অফিসে কেউ ফোন রিসিভ করে না। তাদের ইচ্ছেমতোই চলছে সবকিছু। উপজেলার বিজনা ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি খান বলেন, উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হলেও শতভাগ সেবা পাচ্ছি না।

পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কসবা সদরের এজিএম মোহাম্মদ যুবায়ের বিন মোখলেছুর রহমান বলেন, সামনে ঝড়-বৃষ্টির দিন আসছে তাই পুরাতন লাইন মেরামত করা হচ্ছে। ঘনঘন বিদ্যুিবভ্রাটের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রিডে সমস্যা দেখা দিলে এমনটা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কসবা সদর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সংযুক্ত সড়কের ফোরলেনের কাজ চলছে। তাই গাছ কাটতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে। এ সমস্যা থাকবে না। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হবে। তবে ঘনঘন বিদ্যুিবভ্রাটের বিষয়টি কারিগরি সমস্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি।