খুলনায় সন্ধ্যা ৭টার পর বাজার ও দোকান বন্ধের নির্দেশ

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২১, ২২:০৮

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ

খুলনা অফিস

খুলনায় সন্ধ্যা ৭টার পর বাজার ও দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন কেন্দ্র, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখাসহ পাঁচ দফা নির্দেশনা  দেওয়া হয়েছে। তবে ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। শনিবার খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। আগামী ৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে খুলনা জেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বাজার ও দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, খুলনার দাকোপ, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার সুন্দরবন কেন্দ্রিক সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম ও পর্যটকদের দর্শন বন্ধ রাখতে হবে। সুন্দরবন কেন্দ্রিক ট্যুর আয়োজনকারীদের পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ট্যুর কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হলো। একই সঙ্গে খুলনা জেলা ও মহানগরের সব ধরনের পর্যটন কেন্দ্র, পার্ক, পিকনিক স্পট, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হবে। আরো উল্লেখ করা হয়, ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য সব দোকান, বাজার প্রতিদিন সকাল সাতটা  থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সন্ধ্যা সাতটার পর কোনো দোকান ও বাজার খোলা থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া খাবারের  দোকান রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রসহ বিভিন্ন পার্ক বন্ধ ঘোষণা

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, সুন্দরবনের সব ধরনের পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে এ আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুন্দরবনসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সব পর্যটনকেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২০ সালের মে মাস থেকে সুন্দরবনসহ সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আকাশ নীলা, গোপালপুর পার্ক ও সুন্দরবনের কলাগাছিয়া পর্যটকদের প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায় করোনা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে ১ নভেম্বর থেকে আবারও পর্যটকদের প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এখন করোনার সংক্রমণ আবারও বেড়ে যাওয়ায় ২ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে শুক্রবার থেকে সব পর্যটনকেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নীলফামারীতে ১৮ নির্দেশনা

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য (১ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত) নীলফামারীতে সব ধরনের সমাবেশ বন্ধসহ ১৮টি নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত ৩১ মার্চ নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে জনসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে। এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।   নির্দেশনাগুলো হলো জেলায় সব ধরনের সমাবেশ আয়োজন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে, মসজিদ, মন্দিরসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে নামাজ এবং প্রার্থনাকালে তিন ফুট দূরে অবস্থান এবং মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে উপ-পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইমাম এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয় কমিটিকে বিশেষ অনুরোধ করা হলো, পর্যটন, বিনোদনকেন্দ্র, সিনেমা হল, থিয়েটার বন্ধ রাখতে হবে, বিদেশফেরত যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে ইত্যাদি।

স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই শাহজাদপুরে

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সারা দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এলেও শাহজাদপুরে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে পাড়া ও মহল্লার মসজিদ থেকে স্থানীয়দের মাস্ক ছাড়া মসজিদ ও হাটবাজারে  না আসার জন্য বলা হলেও কেউই তা মানছেন না। ফলে উপজেলায় করোনার ঝুঁকি বাড়ছে। এদিকে শাহজাদপুর থানার ওসি মো. শাহিদ মাহমুদ জানান, শাহজাদপুর থানার উদ্যোগে তিন দফায় ৬০০ জনের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হলেও মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি ভাঙার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হলেও মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার আগ্রহ নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তত্পরতা আরো বাড়ানো না হলে শাহজাদপুর উপজেলার প্রায় ৬ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে।