আগামীকাল সোমবার ভোর ৬টা থেকে পরবর্তী সাত দিনের জন্য দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। তবে লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে ওষুধের দোকান, কাঁচাবাজারসহ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ। পণ্যবাহী যান চলাচল করতে পারবে। চলবে সব ধরনের তৈরি পোশাকসহ শিল্প কলকারখানা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রয়োজনে সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা খোলা রাখা যাবে। তবে সীমিত আকারে জনবল নিয়ে তা পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া নিম্ন ও উচ্চ আদালত, ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে।
লকডাউন চলাকালে যাত্রীবাহী বাস, লঞ্চ, ট্রেন ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। রাজধানীতে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্টদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অফিস-আদালতে যেতে হবে। শপিংমল, বিপণিবিতানসহ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকবে। এছাড়া এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে পুলিশি টহল থাকবে। নির্দেশনা মানাতে পুলিশের সঙ্গে মাঠে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। নিম্ন আয়ের মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া যায়।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সচিব সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অব্যাহতভাবে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এতে ভার্চুয়ালি যোগ দেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার থেকে লকডাউন কার্যকর করার প্রস্তাব সারসংক্ষেপ আকারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে এ ব্যাপারে আজ রবিবার প্রজ্ঞাপন জারির কথা রয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন ইত্তেফাককে জানান, বিদেশ থেকে আসা যাত্রীরা দেশের যে কোনো জায়গায় যেতে চাইলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সনদ নিয়ে যেতে পারবেন। সংবাদমাধ্যম লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। সব ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সভা বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। নিয়োগ পরীক্ষাও এ সময়ে অনুষ্ঠিত হবে না। সব ধরনের উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধর্মীয় কর্মসূচি প্রতিপালন করতে হবে। হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব ধরনের হোটেল বন্ধ থাকবে। একত্রে জড়ো হয়ে একাধিক লোক চলাফেরা করতে পারবে না। পর্যটন কেন্দ্র, সিনেমা হল পার্কসহ সব ধরনের বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপন জারির পর জানা যাবে।
এর আগে সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, সোমবার থেকে সারা দেশে লকডাউন দেওয়া হবে। অবশ্য এরপরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন ভিডিও বার্তায় জানান, দুই-তিন দিন সময় দিয়ে লকডাউন কার্যকর করা হতে পারে। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে অনেকে গ্রামে চলে যান। তাদের দুর্ভোগ কমিয়ে সে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া উচিত।
সচিবদের বৈঠকে সোমবার না হয়ে মঙ্গলবার থেকে লকডাউন কার্যকর করার বিষয়টি আলোচিত হয়। আবার আজ রবিবার থেকেও লকডাউনের পক্ষে মত দেন কেউ কেউ। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বার্তা অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার থেকে লকডাউন কার্যকর করার পক্ষে মতামত দেওয়া হয়।
কাল থেকে বন্ধ ট্রেন
সোমবার থেকে পরবর্তী সাত দিন যাত্রীবাহী সব ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করবে। গতকাল সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদাত আলী।
লকডাউনে দোকান খোলা রাখার দাবি
এদিকে পবিত্র রোজা ও ঈদ সামনে রেখে লকডাউনের এক সপ্তাহ ৪ ঘণ্টার জন্য দোকান খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, দোকানপাট পুরো বন্ধ করা একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কেননা পাইকারি ব্যবসায়ীদের চলতি সপ্তাহে বিক্রির সময়। এ সপ্তাহে বিক্রি করতে না পারলে খুচরা দোকানিরা জিনিসপত্র নিতে পারবেন না। এতে ঈদে সমস্যা তৈরি হবে। আমরা চার ঘণ্টা করে দোকান খোলা রাখার আবেদন করেছি। পাশাপাশি আমাদের আরো দাবি, এই লকডাউন যেন এক সপ্তাহের বেশি না বাড়ে।
