‘লকডাউনের’ খবরে গতকাল শনিবার হঠাত্ করেই রাজধানীর বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে যায়। তারা চাল, ডালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে ভিড় করে। আবার অনেককেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণে পণ্য কিনতে দেখা গেছে।
করোনা মহামারি ঠেকাতে আগামীকাল সোমবার থেকে সারা দেশে এক সপ্তাহের জন্য ‘লকডাউন’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের পর থেকেই বাজারে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে ছুটে যায়। এদিকে রমজানকে সামনে রেখে এমনিতেই নিত্যপণ্যের বাজার চড়া। এরমধ্যে ‘লকডাউন’ আতঙ্কে বাজারে একসঙ্গে বেশি পণ্য কেনার হিড়িকে এক শ্রেণির অসত্ ব্যবসায়ী বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাজারে সব পণ্যের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। তাই আতঙ্কিত হয়ে একসঙ্গে বেশি পণ্য কেনার দরকার নেই।
রাজধানীতে অন্যতম বড় পাইকারী ও খুচরা বাজার কাওরান বাজার। আগামী সপ্তাহ থেকে রমজান শুরু হবে—এজন্য এমনিতেই গতকাল ছুটির দিনে বাজারে ছিল ভিড়। কিন্তু এক সপ্তাহের ‘লকডাইন’ শুরু হচ্ছে—এমন ঘোষণার পর দুপুরের পর থেকে ভিড় যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাপের জন্য দোকানীরা হিমশিম খাচ্ছিলেন।
এই বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা জেসমিন আক্তার বলেন, রমজানের জন্য বাজার করতে আসছিলাম। কিন্তু এখন শুনছি লকডাউন শুরু হবে। এক সপ্তাহের কথা বলছে, কিন্তু কতদিন থাকবে তা কি বলা যাবে। তাই একটু বেশি করে বাজার করছি। কাওরান বাজার থেকে নিয়মিত বাজার করেন আলী হোসেন। ‘লকডাউনের কথা শুনেই তিনি বাজার করতে চলে এসেছেন। বেসরকারি এই চাকরিজীবী বলেন, এবার যেভাবে শুনছি করোনার প্রভাব নাকি আগের চেয়ে বেশি। তাই আতঙ্কিত না হয়েও—তো উপায় নাই। তিনি জানান, একসঙ্গে এক মাসের চাল, ডাল, আলুসহ রমজানের জন্য যেসব বাজার প্রয়োজন তাই তিনি কিনছেন।
রাজধানীর আরেকটি বড় খুচরাবাজার শান্তিনগর বাজার। এই বাজারে গিয়েও দেখা যায়, ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড়। ব্যবসায়ীরা জানালেন, মূলত দুপুরের পর থেকেই বাজারে ক্রেতাদের বেশি ভিড় জমেছে। এই বাজারে বাজার করতে এসেছেন শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা আলম হুমায়ুন। পেশাজীবনে ব্যবসায়ী এ ক্রেতা বলেন, লকডাউন হলে তো সবকিছুই বন্ধ থাকে। বাইরে বের হওয়ার উপায় থাকে না। তাই একটু বেশি বাজার তো করতেই হবে।
‘লকডাউনের কথা শুনে বাজার করতে এসেছেন আরেক ক্রেতা বেলায়েত। তিনি বলেন, রমজানের জন্য তো বাজার করতেই হতো। এখন লকডাউন দেওয়ায় আগেই বাজারে এসেছি। তবে বাজারে এসে দেখি জিনিসপত্রের দাম বেশি। আসলে ব্যবসায়ীরাও সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, এমন অভিযোগ তার।
