তারুণ্যের ভাবনায় বাংলা নববর্ষ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২১, ১৯:৫০

নববর্ষ হোক প্রান্তজনের সংস্কৃতি বিকাশ এবং

বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার

মোঘল সম্রাট আকবর কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায় সহজ করতে চেয়েছিলেন। হিজরি এবং সৌরবর্ষের সমন্বয়ে তার নির্দেশনায় ফতেউল্ল্যাহ সিরাজী প্রস্তুত করেছিলেন তারিখ ই ইলাহী। এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত চলতো খাজনা আদায় আর পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু নববর্ষ। কালের পরিক্রমায় যা আজ বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতির অন্যতম অংশ। নববর্ষ মানে রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন, পুরোনো দিনের গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন শুভর পথে চলা— সর্বজনের মধ্যে গড়ে তোলা হূদ্যতার নব সেতুবন্ধন। সেজন্য প্রয়োজন সবার সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, প্রত্যেকের সংস্কৃতি বিকাশ চর্চায় সহযোগিতা করা। তাই, প্রত্যাশা করি, করোনা মহামারির এই কঠিন সময়েও নববর্ষ আমাদের আত্মিক বোধ জাগিয়ে তুলে নববর্ষ হবে সর্বজনের সংস্কৃতি বিকাশ এবং শোষণ-বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের হাতিয়ার।

—মেহেদী মামুন, ইংরেজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

নববর্ষে পুরোনো সব জঞ্জাল সরানোর দায়িত্ব

নিতে হবে তরুণ প্রজন্মকেই

পুরো একটি বছর ঘরে কাটানোর পর নতুন বছরকে নিয়ে আমাদের উত্সাহের  কমতি নেই। হয়ত আমরা আশা করছি নতুন বছরে এই কোভিড থেকে অন্তত মুক্তি পাওয়া যাবে। স্বপ্ন দেখতে দোষ কি? কিন্তু গত এক বছরে দেশে যে পরিমাণে সাম্প্রাদায়িক মনোভাব আর নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে, এতে ভয় হয় আমাদের দেশটা কী বদলে যাবে? যে দেশের স্বপ্ন নিয়ে একসময়ে পথচলা শুরু করেছিল  আমাদের অগ্রজরা, সেই স্বপ্নের দেশটা কী হারিয়ে যাবে? ইদানিং আশার চেয়ে ভয়ই বেশি হয়। তবুও প্রত্যাশা করি, নতুন বছরে আমাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য। এ নববর্ষে আমার সবচেয়ে প্রত্যাশা থাকবে, সাম্প তিক প্রতিহিংসাপরায়ণতা থেকে বেরিয়ে আসে সব বাংলাদেশি একসাথ হয়ে যাক। আমাদের দেশটা শিশু ও নারীদের জন্য নিরাপদ হোক। নববর্ষে পুরোনো সব জঞ্জাল সরানোর দায়িত্ব নিতে হবে তরুণ প্রজন্মকেই।

—নিশাত তাসনিম, স্থাপত্য বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে

আমাদের ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে

বাংলা ১৪২৭ সনকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলা ১৪২৮ সনকে বরণ করতে প্রস্তুত গোটা বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই নতুন বছরে বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা হবে করোনা ভাইরাস মুক্ত বাংলাদেশ তথা সমগ্র বিশ্ব। বাংলাদেশের মানুষ তথা বিশ্বের বাঙালিরা করোনা মহামারি থেকে সহসা মুক্তির আশা নিয়ে ১৪২৮ সনকে বরণ করে নেবে। আমাদের মধ্যকার বাঙালিয়ানা চেতনা যেন পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন কেন্দ্রিক না হয়ে বছরের বাকি দিনগুলোতেও নিজেদের ঐতিহ্যকে লালন করতে হবে। আমাদের রয়েছে হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। আমরা যদি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও   সংস্কৃতি চর্চা না করি তবে এক সময়ে এগুলো কালের গহ্বরে হারিয়ে যাবে। এটা কোনোভাবেই  তরুণ প্রজন্ম হতে দেবে না। সুতরাং দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে আমাদের ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে।

—আজমীর হোসাইন, অর্থনীতি বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।