‘সিনিয়রদের কাজের পরিবেশ ঠিক করে দেবো’

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২১, ২০:৫৭

 

এদেশের চলচ্চিত্রে স্টার তৈরি করার নজির খুব কম নির্মাতারই রয়েছে। সেই তালিকায় ব্যতিক্রমী একজন সোহানুর রহমান সোহান। অসংখ্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের এই নির্মাতা তৈরি করেছেন নতুন অনেক তারকা। এবার নতুন করে হাল ধরলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির। চলচ্চিত্রের নানা ভাবনা প্রকাশ করলেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। কথা বলেছেন এ এম রুবেল

বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই—

শিগগিরই ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময় নিয়ে একটি ছবি এবং নতুন ছেলেমেয়ে নিয়ে ‘রাজকুমার’ নামের একটি রোমান্টিক ছবির কাজ শুরু করবো। এছাড়া ‘জনতা পুলিশ’ ও ‘মানববন্ধন’ নামের নতুন দুটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান শুরু করছি।

আপনি পরিচালক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হলেন। চলচ্চিত্রের স্বার্থে সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি—

আমাদের প্রথম কাজই হবে চলচ্চিত্র শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের নিজেদের কোনো জায়গা নেই, যেখানে আমরা বসতে পারি। এছাড়া প্রায় সব কর্মের মানুষ শেষজীবনে একটা ফান্ড পান। আমাদের সেটা নেই। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়গুলো নিয়ে যাবো এবং উনি যেহেতু চলচ্চিত্রকে ভালোবাসেন সেহেতু নিশ্চয় বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। পাশাপাশি মৃতপ্রায় চলচ্চিত্রের জীবন ফেরাতে বেশকিছু কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে।

নির্বাচন এলে এবং মাঝে মাঝে এক অন্যকে বয়কট নিয়ে সংগঠনগুলো আলোচনায় বেশি থাকে। এ বিষয়ে কী বলবেন?

এই কথাটি অনেকটাই সত্য। তবে আমি এই বয়কটের বিরুদ্ধে। বয়কট কোনো সমাধান হতে পারে না। আমাদের মধ্যে কেন দ্বন্দ্ব থাকবে! এই সমস্যা আমরা মিটিয়ে ফেলবো। এটা আর থাকবে না।

জনশ্রুত আছে সিনিয়র নির্মাতা কাজ পাচ্ছেন না বলে চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে আছেন। এ বিষয়ে আপনি কী মন্তব্য করবেন?

আমরা সিনিয়ররা কাজ পাচ্ছি না, কথাটা ঠিক না। যারা কাজ করতে চায় তারা ঠিক কাজ করছে। ঘরে বসে থাকলে কেউ কাজ এনে দেবে না। চেষ্টা করতে হবে। তবে যারা কাজ পাচ্ছে না তাদের কাজের পরিবেশও আমরা ঠিক করে দেবো, ইনশাল্লাহ।

সিনিয়র নির্মাতারা দূরে থাকায় চলচ্চিত্র মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন না?

অনেকেই মনে করে বয়স হয়ে গেছে ওনারা কাজ করতে পারবে না। কিন্তু আমার মনে হয় সিনিয়ররা কাজ করলে তাদের থেকে দেখে নতুনরাও ভালো কাজ করতে পারতো। সিনিয়ররা নিয়মিত কাজ করলে চলচ্চিত্র আরো ভালো অবস্থানে যেত।

আপনারা অনেক স্টার তৈরি করেছেন। কিন্তু বর্তমান সময়ের নির্মাতারা সেই জায়গায় ব্যর্থ। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?

অনেকেই এই কাজটি করতে চায় না বা করতে পারে না। কারণ নতুন শিল্পী তৈরি করতে অনেক কষ্ট করতে হয়। আমি এই কাজটি করতে ভালোবাসি বলেই অনেককে তুলে এনেছিলাম। আবার যেহেতু কাজ করছি সেহেতু নতুন স্টার তৈরি করবো। পাশাপাশি আমরা নতুন মুখের সন্ধানে আবার চালু করে নতুন কাউকে তুলে আনবো।

দীর্ঘদিন একক নায়ক নির্ভরতায় চলছে ইন্ডাস্ট্রি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে কী বলবেন?

এক সময় আমাদের চলচ্চিত্রে থার্ডপার্টি যারা ছিল তারা প্রযোজকদের বোঝাতেন একে নাও, ওকে নাও। তাদের নিলে ছবি সুপারহিট হবে। নিজের স্বার্থে তারা নির্ধারিত শিল্পী নির্ভর হয়ে পড়ে। ফলে সেই শিল্পীরাও ছবির খরচ বাড়িয়ে ফেলে। এতে লগ্নি উঠে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। যা চলচ্চিত্রকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছে। তবে ভালো কিছু ছবি তৈরি হলে এই অবস্থার উত্তরণ হবে।

ইন্ডাস্ট্রি এখনা নানামুখি সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। একজন সফল নির্মাতা হিসেবে সার্বিক অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

এখন দেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা নাজুক এটা বলার অবকাশ নেই। এখন হিট ছবি উপহার দেওয়ার মতো তারকা-নির্মাতা অনেক কম রয়েছে। তবে সিনিয়র নির্মাতারা নিয়মিত কাজ করলে নিশ্চয় চলচ্চিত্র সুদিন ফিরে পাবে। এখন দেশের সিনেমা হল কমলেও এক সময় ১৪ হাজার সিনেপ্লেক্স নির্মিত হবে!