ড. আবুল বারকাতের গবেষণা গ্রন্থের আলোচনায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের সদ্য প্রকাশিত ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র :ভাইরাসের মহাবিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ গবেষণা গ্রন্থটির বিষয়বস্তুর ওপর ১৩ সিরিজ জুম ওয়েবিনারের ‘ভূমি ও কৃষি :শোভন সমাজের সন্ধান’ শীর্ষক ৪র্থ ওয়েবিনারটি শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়। এই ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নিয়েছেন এমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল, চাকমা সার্কেল রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, যুক্তরাষ্ট্রের এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মদন মোহন দে এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এএলআরডি নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান। অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, যে কোনো শোভন সমাজ গঠন করতে প্রযুক্তিসমৃদ্ধ কৃষির দরকার যাকে ড. বারকাত শোভন কৃষি বুঝিয়ে থাকেন। কৃষিতে নারীর শ্রমের মূল্যায়ন করতে হবে। ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায় তার আলোচনায় বলেন আদিবাসীদের ভূমি আইন হয়েছে কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি, বাস্তবায়ন দরকার। সরকারকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পর্কে বিশেষভাবে ভাবতে বলেন। অধ্যাপক ড. মদন মোহন দে উল্লেখ করেন যে, দেশে যে পরিমাণ জলমহাল আছে সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহার করতে হবে। জলমহালগুলো ক্ষুদ্র কৃষক ও মত্স্যজীবীদের মধ্যে সুষম বণ্টন করতে হবে। অঞ্চলভেদে ক্ষুদ্র ও বড় কৃষকদের মধ্যে পার্থক্য কমাতে হবে এবং লাগসই নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তাদের উত্পাদিকা শক্তি বাড়াতে হবে। শামসুল হুদা বলেন, ক্ষুদ্র কৃষক হচ্ছেন কৃষির মেরুদণ্ড। তাদেরকে উত্সাহ দিতে হবে, দিতে হবে বাজার-সহায়তা। ক্ষুদ্র কৃষকদের সংগঠিত হয়ে দাবি আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। জনপ্রশাসনে অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনতে হবে। তবেই ভূমি সংস্কার সম্ভব এবং শোভন সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের ২০ বছরের গবেষণার ফসল ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র: ভাইরাসের মহাবিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ বইটি সম্পর্কে অভিনন্দন বাণী দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক নোয়াম চমস্কি।
