মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৮

লকডাউনে মার্কেট বন্ধের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নিউমার্কেট থানা এলাকার কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন তারা। এছাড়া মিরপুর-১০ নম্বর গোলচক্করেও ব্যবসায়ীরা লকডাউনের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তবে সড়কে অবস্থান নেওয়া ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে দ্রুত আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করেছে পুলিশ।

এদিকে দাবি না মানলে ফের ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামবেন বলে পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক ইয়াসিন আলী বলেন, বেলা ৩টার দিকে সড়কে নেমে দাবি          আদায়ে আন্দোলনের পাশাপাশি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভরত ব্যবসায়ীরা। পরে ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভের সময় কয়েকটি গাড়িতে ইট ছুড়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার দাবি জানিয়ে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের সামনে দুপাশের সড়ক বন্ধ করে অবস্থান নেন ব্যবসায়ীরা। পরবর্তীকালে নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, নূরজাহান ম্যানসন, নূর ম্যানসন, গাউছিয়া মার্কেট, নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেটের ব্যবসায়ী, দোকান কর্মচারীরা রাস্তা নেমে পড়েন। তারা বিভিন্ন স্লে­াগান দিয়ে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। ফলে নিউমার্কেট এলাকায় সড়কের দুপাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

জানতে চাইলে নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন দিলে শত ভাগ লকডাউন দিতে হবে। কোনো কোনো খাত ছাড় দিয়ে কোনো কোনোটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাটা অন্যায়। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খোলা রাখতে পারলে নিজেদের খাবারদাবারের সংস্থান হবে, কর্মচারীরা বেতন পাবেন। সারা বছর ব্যবসায়ীরা এই সময়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ঈদের সময় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেন। তিন ধাপে ব্যবসা ভেদে এ সময় কেনাবেচা হয়। রোজার আগের ১৫ দিন, রোজার প্রথম ১৫ দিন ও শেষ ১৫ দিন। এ সময়ে এসে দোকানপাট বন্ধ হওয়া মানে পথে বসে যাওয়া।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে আজ সকাল ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত পর্যন্ত চলাচল ও কাজে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এ সময় শুধু জরুরি সেবা ছাড়া প্রায় সবকিছু বন্ধ থাকবে। গতকাল রবিবার সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়।