শখের বশে হকির মাঠে

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৩

স্পোর্টস রিপোর্টার

বাংলাদেশের খেলাধুলার মান বেড়েছে। বাড়েনি পৃষ্ঠপোষকতা। ক্রিকেটের পৃষ্ঠপোষকতা বেশি থাকলেও সবক্ষেত্রে তা নয়। তারপরও দেশের খেলাধুলা পিছিয়ে নেই। সব খেলাধুলায় আগ্রহ আছে। পেশাদারি মোড়কে শৌখিন খেলোয়াড়রাই হকির মূল ভরসা।

প্রিমিয়ার হকি লিগে জাতীয় দলের কিছু খেলোয়াড় ছাড়া অন্যদের প্রতি আগ্রহ থাকলেও অর্থের মানদণ্ডে তারা অনেকে পিছিয়ে যায়। ক্লাবগুলোতে প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের অর্থের হাতছানি নেই। জিমি, চয়ন, মিমো, আশরাফুলদের মতো কিছু খেলোয়াড় ভালো অর্থ পায়। এমন সংখ্যা প্রিমিয়ার লিগের সব মিলয়ে খুব বেশি হলে ২০ থেকে ৩০ জন। বাকি খেলোয়াড়দের মধ্যে কে কত টাকা পান তা নিয়ে হিসাব করতে গেলে হতাশ হতে হয়। প্রিমিয়ার লিগেই যদি এমন চিত্র হয় তাহলে প্রথম বিভাগ লিগের কি অবস্থা? সেখানে আরো রুগ্ন চিত্র ফুটে উঠেছে।

প্রথম বিভাগ হকি লিগের প্রায় সব খেলোয়াড়ই এখন শখের বশে খেলছেন। ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় বের করার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। খেলোয়াড় এনে কোনো রকমে মাঠে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। এবার প্রথম বিভাগ হকি লিগে যারা খেলছেন তাদের বেশির ভাগ খেলোয়াড় অন্যান্য পেশার সঙ্গে জড়িত। হকি খেলাটা অবসরের সঙ্গী। বাড়তি সময়ে হকি খেলতে হয়। কেউ ফাস্ট ফুডের দোকান দিয়েছেন। কেউ স্কুল টিচার। কেউ ইভেন্ট ম্যানেজামেন্ট সঙ্গে জড়িত। আবার কেউ স্কুলছাত্র। শিক্ষার্থীদের নিয়েও দল গড়েছে কোনো ক্লাব। জহিরুল ইসলাম মিতুল ঢাকা ইউনাইটেডের কোচ সাবেক খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি কাল সংবাদ মাধ্যমকে বলছিলেন তার দলে সাত-আটজন খেলোয়াড় চাকরি করেন। এদের মধ্যে মাসুম ও রকি স্কলাসটিকার শিক্ষক। এই দুজন সম্পর্কে মিতুল বলেন, ‘ওরা খেলতে চেয়ে আমাদের কাছে অনুরোধ করে।’ তিনি মনে করেন পাইপ লাইনে খেলোয়াড় নেই।

এবার প্রথম বিভাগ হকিতে বিকেএসপির খেলোয়াড় নেই। বিকেএসপি খেলোয়াড় ছাড়েনি। যে কারণে প্রথম বিভাগ হকি লিগে খেলোয়াড় সংকট রয়েছে। বিকেএসপি হচ্ছে খেলোয়াড় সরবরাহের সবচেয়ে বড় পাইপ লাইন। সেখানে থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকলে হকিতে লিগের খেলায় তার প্রভাব পড়ে। সংকট কাটাতে গিয়ে প্রথম বিভাগ হকি লিগের দলগুলো বিদেশি খেলোয়াড় আনছে। মান থাকুক, না থাকুক- ভরসা রাখতে হচ্ছে। আরো খারাপ খবর হচ্ছে- অনেক ক্লাব খেলোয়াড় সংকট পূরণ করতে গিয়ে নতুনদের জায়গা করে দেয়। যাদের অভিজ্ঞতা নেই।

এমনকি হকি স্টিক ধরতে পারে না তাকেও মাঠে নামাতে হয়েছে। একজন ক্লাব কর্মকর্তা জানালেন দুই তিন দিনে স্টিক ধরা শিখিয়ে মাঠে নামাতে হয়েছে।