রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সম্প্রতি যানবাহনের চাপায় ও ধাক্কায় পথচারী নিহত হওয়ার হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হারও উদ্বেগজনক। সড়কে নিরাপদে চলাচল বিষয়ে অজ্ঞতা, অবহেলা এবং ট্রাফিক আইনের প্রয়োগহীনতাই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেছে ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মোটরসাইকেল ক্রয় এবং চালনার ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে না পারলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার চিত্র আরো ভয়াবহ হবে।
গত মার্চ মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪০৯টি। এতে আহত-নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে নিহত হয়েছেন ৫১৩ জন এবং আহত ৫৯৮ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৭৮, শিশু ৬৩। ১৩৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৪৭ জন, যা মোট নিহতের ২৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১৩৬ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৮২ জন, অর্থাত্ ১৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এই সময়ে দুটি নৌ-দুর্ঘটনায় দুজন নিহত এবং আট জন আহত হয়েছে। ১৫টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ছয় জন আহত হয়েছে।
দেশের সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্টনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো হচ্ছে—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অন্যতম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১১৯টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৬ জন। সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী ১৪৭ জন, বাস যাত্রী ৩০ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি যাত্রী ৫১ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার যাত্রী ৫০ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (সিএনজি-ইজিবাইক-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পো-মিশুক) ৮১ জন, নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-লাটাহাম্বা ও বাই-সাইকেল আরোহী ১৮ জন নিহত হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৭২টি জাতীয় মহাসড়কে, ১১৬টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭৩টি গ্রামীণ সড়কে, ৩৬টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ১২টি সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৬৬৮টি। সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে ভোরে ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ, সকালে ৩৩ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ, বিকালে ২০ শতাংশ ৫৩ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং রাতে ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সুপারিশ জানিয়ে বলা হয়েছে, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়তে হবে; চালকদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ করা, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রেল ও নৌপথ সংস্কার করে সড়ক পথের ওপর চাপ কমানো, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করার সুপারিশ জানান।
