ফেব্রুয়ারির বইমেলা এবার মার্চে শুরু হয়েছে, অর্থাত্ ২১শের মেলা ১৮ই মার্চে। এই বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা, লেখক-প্রকাশক-পাঠকের মিলনমেলা। তবে এবারের মেলায় নেই আগের সেই উচ্ছ্বাস। নেই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। কারণ মেলা এবার করোনা-আক্রান্ত। তবে করোনা-আক্রান্ত হলেও লকডাউন থেকে রেহাই পেয়েছে। লকডাউনের কারণে নতুন সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়েছে, যা অনেককেই অবাক করেছে। এবারের মেলার সবকিছুতেই করোনার ছাপ লক্ষণীয়— প্রকাশনায়, লেখনীতে, পাঠক উপস্থিতিতে। অনেকেই শঙ্কিত ছিলেন করোনার এই রূপান্তরিত ঢেউয়ের ঊর্ধ্বগতিতে মেলা হবে তো? হলেও পাঠক আসবে তো? তার পরও উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার ইতি ঘটিয়ে মেলার উদ্বোধন হলো। শুরুর দিকে পাঠক-দর্শকের উপস্থিতি আশানুরূপ হলেও ধীরে ধীরে করোনার ঊর্ধ্বগতিতে মেলায় মানুষের উপস্থিতি কমে আসে। তার পরও চলছে মেলা। লকডাউনের কারণে এখন মেলা চলবে বেলা ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। পাশাপাশি চলছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সতর্কসংকেত—ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে, দূরে থেকে কথা বলতে হবে, মাস্কটি ঠিকমতো পরতে হবে। বইগুলো ধরতে, নাড়তে, কিংবা পড়তে হলে হাতটাকে স্যানিটাইজ করতে হবে। এসব বিধিবিধান মানা প্রয়োজন নিজের সুরক্ষার জন্যই কিন্তু অনেকেই এসব কানে তোলেন না, মেনে চলেন না, যা এই রোগের ঊর্ধ্বগতির জন্য দায়ী। তার পরও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে গ্রন্থপ্রিয় মানুষ এতদিন ছুটেছেন মেলায়। একদিকে করোনার শঙ্কা ও লকডাউন, অন্যদিকে গ্রীষ্মের উত্তাপ। পরিবেশ, আবহাওয়া, অতিমারি—সবকিছু মিলিয়ে প্রাকৃতিক বৈরিতা এবারের মেলাকে বেশ সমস্যাতেই ফেলেছে। আর তাই করোনাকে চ্যালেঞ্জ করে একুশের বইমেলাকে কেন মার্চ-এপ্রিলে করতে হবে সেটা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কোভিড শঙ্কায় লকডাউন ঘোষণা করা হলেও মেলা কেন চালু রাখা হলো, এ নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে সমালোচনার ঝড়। যেহেতু করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বইপ্রিয় মানুষের পদচারণায় মেলা পরিণত হয় মিলনমেলায়। যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা ভিড় এড়িয়ে চলা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
যেহেতু এখন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, আবার হঠাত্ করে ব্যাপক হারে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে—তাই সংগত কারণেই দর্শকসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। শুধু হ্রাসই নয়, লকডাউনের প্রথম দিনেই বইমেলা ছিল প্রায় দর্শকশূন্য।
যা-ই হোক, মেলা শুরুর আগে থেকেই আদৌ মেলা হবে কি হবে না, প্রকাশকরা ঠিকভাবে বই প্রকাশ করবে কি করবে না—এসব চিন্তা করতে করতেই হঠাত্ শুনলাম, বইমেলা হবে। আর তাই শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে একটি বই প্রকাশ করার উদ্যোগ নিই। যেটি প্রকাশিত হয়েছে ২রা এপ্রিল। বইটির নাম ‘সংগত প্রসঙ্গত অসংগত’।
আমাদের সমাজ-জীবনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে। যার কিছু সংগত, কিছু প্রসঙ্গত, কিছু অসংগত। যা মানুষকে হাসায়-কাঁদায়-ভাবায়, কখনো মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়ায়, ক্ষোভও জন্মায়। এ থেকে সংগতভাবেই মুক্তি চায় মানুষ। অসাধু ব্যক্তিদের ধরা পড়া আর না পড়াতে দুর্নীতির গতি ও নীতির দুর্গতি অতিশয় ক্ষতির প্রভাব ফেলে সমাজের সর্বত্র। বাড়তে থাকে অসংগতি, সম্পূর্ণ বিষয়টিই হয়ে যায় অসংগত।
এই সংগত প্রসঙ্গত অসংগত বিষয়গুলো নিয়েই ২০২০ সালে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত লেখার সংকলন আমার এই গ্রন্থ। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। প্রকাশ করেছে প্রিয় বাংলা প্রকাশন।
