ডাক্তার মৃত বললেও সন্তান হলো জীবিত

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪৮

আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখে ডাক্তার এক প্রসূতির গর্ভের সন্তানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু পরে সেই নারী এক জীবিত সন্তান প্রসব করেন এবং সেই সঙ্গে ডাক্তারের ঘোষণাও ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়।

এমন ঘটনা ঘটেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়। গত রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন সড়কে একটি অ্যাম্বুলেন্সে সেই সন্তানের জন্ম দেন নুরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. শরিফের স্ত্রী ফাতেমা বেগম।

প্রসূতি ফাতেমা বেগম ও তার পরিবার জানায়, শনিবার সকালে স্থানীয় এক ধাত্রী গৃহবধূ ফাতেমার স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে রাতে প্রসূতিকে উপজেলার সিটিহার্ট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত চিকিত্সক ডা. মরিয়ম আক্তার সনিয়ার কাছে নিয়ে যান স্বজনেরা। সেখানে করানো আলট্রাসনো রিপোর্ট দেখে ব্যবস্থাপত্রে ‘আইইউডি’ অর্থাত্ ‘জরায়ুর ভেতরে সন্তান মৃত’ উল্লেখ করে ঐ রোগীকে বরিশালে রেফার্ড করেন চিকিত্সক। রবিবার প্রসূতিকে নিয়ে চরফ্যাশন উপজেলা সদর হাসপাতালে যায় তার পরিবার। এখানে জরুরি বিভাগের চিকিত্সক ডা. নুর মোহাম্মদ তালুকদার বেসরকারি ক্লিনিকের চিকিত্সক মরিয়ম আক্তার সনিয়ার রিপোর্ট দেখে ব্যবস্থাপত্রে আইইউডি উল্লেখ করে হাসপাতালে ভর্তির অনুমতি দেন। প্রসূতির মামি জান্নাতুল ফেরদাউস জানান, চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তির পর প্রসূতি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিত্সক ‘অপারেশন করা সম্ভব নয়’ বলে রোগীকে বরিশালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রসূতির পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় সন্ধ্যায় স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে প্রসূতিকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফুটফুটে এক জীবিত পুত্রসন্তান প্রসব করেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঐ রোগীকে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত চিকিত্সক ডা. মরিয়ম আক্তার সনিয়া সংবাদকর্মীদের কাছে আইইউডির অপব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, আলট্রাসনোয় গর্ভের শিশুর হার্টবিট না থাকায় আইইউডি উল্লেখ করে দ্বিতীয়বার দেখার জন্য বরিশালে রেফার্ড করা হয়।

তবে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন কুমার বশাক বলেন, আইইউডি মানে ‘জরায়ুর ভেতরে নবজাতক মৃত’। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। ভোলার সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ রেজাউল ইসলাম জানান, শিশুর হার্টবিট না থাকলে অনেক সময় এরকম ঘটনা ঘটতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষকে আরো সাবধান ও সচেতন হতে বলা হবে।