লকডাউনের নামে সরকার ক্র্যাকডাউন দিয়েছে : নুর

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:৫০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি এবং বাংলাদেশ ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল হক নুর অভিযোগ করে বলেছেন, প্রতিবাদী মানুষের রাস্তায় নামা ঠেকাতে লকডাউনের নামে ক্র্যাকডাউন দিয়েছে সরকার। লকডাউন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে তারা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘রবিবার গুলশান থেকে বাসায় ফেরার পথে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে একদল লোক উত্তর বাড্ডা এলাকা থেকে আমাকে অপহরণ করে গুমের চেষ্টা করে। রাস্তায় যানজট থাকায় গাড়ি চলার মতো অবস্থা ছিল না, আমি গাড়ির দরজা ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের হয়ে চিত্কার করে লোকজন জড়ো করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে পোশাক পরিহিত কিছু পুলিশের লোক এসে ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ক্রীড়া সম্পাদক আরেফিন ফরহাদ ও পরিচিত ছোট ভাই শিপনকে গ্রেফতার করে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এর আগে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। বরং বিভিন্ন সময় হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার  হয়েছি।’

ছাত্র, যুব, শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হয়রানির প্রতিবাদ ও নুরকে গুমের চেষ্টাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজধানীর পল্টনস্থ জামান টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নুরুল হক নুর এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, মোদিবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের ডানপন্থি, বামপন্থি, ছাত্র-জনতা সবার মধ্যেই একটা প্রতিবাদ হয়েছে। সেই প্রতিবাদের রেশ এখনো চলমান। মানুষের যে প্রতিবাদী চেতনা, কিংবা রাস্তায় নেমে আসার যে প্রবণতা এটাকে থামানোর জন্য সরকার লকডাউনের নামে ক্র্যাকডাউন দিয়েছে। নুর বলেন, গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের থানায় নির্মম নির্যাতন করে মিথ্যা ও বানোয়াট স্বীকারোক্তি নেওয়া হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদিবিরোধী আন্দোলনে সহিংসতায় সরকারি দলের লোকজনসহ দুর্বৃত্তরা জড়িত থাকলেও সরকার ভিন্নমত ও বিরোধীদের দমনে মিথ্যা মামলা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে অসংখ্য মানুষকে গ্রেফতার করছে। একই সঙ্গে  গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মতো বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যাপন অনুষ্ঠান সরকার দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণকে সম্পৃক্ত না করে সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পালন করেছে। যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থি।