‘ইংরেজি আপা’র গল্প

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ২০:৫৮

 

ঘরে বসেই নিশ্চয়ই স্পোকেন ইংলিশ রপ্ত করার ইচ্ছে রয়েছে আপনার। ইংরেজি বলতে গিয়ে বন্ধুদের হাসির পাত্র হওয়ার পর জেদ হয়েছে ইংরেজি শেখার। গ্রুপ প্রেজেন্টেশনে কথা বলতে গেলেই গলা শুকিয়ে যায়, মনে হয় সামনের বার ভালো করব।

গ্রামারের কথা শুনলেই চলে আসে অনীহা, আরেকটু সহজ করে যদি কেউ বুঝাতে পারতো। বিদেশে পড়াশোনার ইচ্ছে যাদের রয়েছে IELTS-এর স্পিকিংয়ে ভালো করতে চান নিশ্চয়ই। ইংরেজির এমন নানান খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কাজ করছেন মুনজেরিন শহীদ। সকলের মাথায় হয়তো-বা ভাবনা মুনজেরিন আপু না অক্সফোর্ডে! দেশে এলো কবে। বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসেছে সেমিস্টার বিরতিতে। নিজের কর্মস্থল টেন মিনিট স্কুলে বসেই শুরু হয় আড্ডা। প্রথমেই আপুকে বললাম— আপনাকে তো দেখি সকলে ‘ইংরেজি আপা’ বলে ডাকে, বিষয়টা কিভাবে উপভোগ করেন। ছোট কথায় উত্তর দিলেন; ‘আমি ইংরেজি নিয়েই কাজ করছি, সেহেতু মানুষ আমার পরিচয়টা এভাবে বলতে আনন্দ পায়।’

মুনজেরিন শহীদ একজন শিক্ষক এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর। নিজের নামের পাশে পরিচিতি হিসেবে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘লেখক’ মুনজেরিন শহীদ। অনলাইনেই শেখাচ্ছেন ইংরেজির হাজারো বিষয়। বাংলাদেশে তারকা তো আছে অনেকেই কিন্তু ইংরেজি পড়িয়ে তারকা হওয়া যে সম্ভব তা প্রমাণ করেছেন মুনজেরিন শহীদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপ্লায়েড লিঙ্গুয়েস্টিক অ্যান্ড সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাকুইজিশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ছেন মুনজেরিন। ইংরেজিকে সহজ করে উপস্থাপন করছেন নিজের ফেসবুক পেজে, ইউটিউব চ্যানেলে। বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থীর পাশাপাশি নানান বয়সের মানুষ দেখছে সেসব ভিডিও। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রায় দুই লাখ অনুসারী রয়েছে। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে ইউটিউবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ইতিমধ্যে ২৩ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে ভিডিওগুলো। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাখো অনুসারী দেখেন মুনজেরিনের ইংরেজি শেখানোর ভিডিও। ইংরেজি শেখানোর ওপর শতাধিক কনটেন্ট রয়েছে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে।

মুনজেরিন শহীদের শৈশবের দিনগুলো কেটেছে চট্টগ্রাম শহরে। ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি বই পড়ার প্রতি ছিল ঝোঁক, তবে অনীহা ছিল গণিতের ওপর। হাসতে হাসতে বলে উঠলেন, ‘আমি গণিতে অনেকবার ফেলও করেছি। আসলে আমি কখনো অনুশীলনই করতাম না গণিতের। যতটুকু দরকার ছিল ততটুকুই করতাম। হ্যারি পটারের বই পড়া নিয়ে বোনের সঙ্গে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে বহুবার কলেজ জীবনে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু হয় ঢাকাতে। ঢাকায় এসে এক বিরাট সমস্যার মুখে পড়তে হয় তার কেননা শহরের কোনো রাস্তাঘাট চেনা নেই। বোনের সাহায্য নিয়েই প্রথমে ক্যাম্পাসে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই নানান ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের খরচ জোগাড় করতেন। 

টেন মিনিট স্কুল সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে বন্ধুদের কাছ থেকে। ইংরেজি ব্লগ লেখার প্রতি বেশ আগ্রহ ছিল মুনজেরিনের। টেন মিনিট স্কুল ব্লগ নামে একটা বিভাগ চালু করছে জানতে পারেন তিনি। ব্লগ রাইটার হিসেবে যাত্রা শুরু হয় টেন মিনিট স্কুলে মুনজেরিন শহীদের। পরবর্তী সময়ে পর্দার পিছনের মানুষ হিসেবেই কাজ করেছেন বিভিন্ন বিভাগে কুইজ টিম, সোশ্যাল মিডিয়া টিম, কনটেন্ট টিম সহ নানান টিমে। বর্তমানে তিনি টেন মিনিট স্কুলে মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কর্মরত আছেন। সামনে এসে কখনো কাজ করার ইচ্ছে হয়নি তার। ক্যামেরার সামনে এসে কথা বলতেই কি না খানিকটা লজ্জা পেতেন। করোনা যখন বাংলাদেশে হানা দেয়, তখন ঘরে বসেই চলতে থাকে কর্মকাণ্ড। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সময় ঘরবন্দী জীবনে খানিকটা ভিন্ন কিছু করার পরিকল্পনা থেকেই ইংরেজি বিষয়ের ওপর নানান কনটেন্ট তৈরি করা শুরু করেন। ভিডিও করার জন্য কোনো সরঞ্জাম ছিল না ঘরে। মোবাইল দিয়েই তৈরি করতেন ভিডিওগুলো। প্রথমে পরিকল্পনা করেন স্পোকেন ইংলিশের ওপর ৩০টা ভিডিও তৈরির। ভিডিও তৈরির পর টেন মিনিট স্কুল সহ নিজের পেজে এবং ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতেন। প্রথম ভিডিও আপলোড করার পর টেন মিনিট স্কুলের ইতিহাসে একদিনেই ওয়ান মিলিয়ন অতিক্রম করে ভিডিওটি। সকলের উত্সাহ এবং টেন মিনিট স্কুলের সদস্যদের অনুপ্রেরণায় পুরোদমে ইংরেজি বিষয়ের ওপর ভিডিও কনটেন্ট তৈরির প্রতি আগ্রহী হন মুনজেরিন। ইংরেজির ওপর লিখেছেন দুটো বই— ‘ঘরে বসে Spoken English’ এবং ‘সবার জন্য Vocabulary’ প্রকাশিত হয়েছে এবারের অমর একুশে বইমেলায়।