দিলীপ কুমার সাহা, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
একদিকে হাওরের বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে সংশয়, অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। এই দুই নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষক পরিবার। এক ফসলি বোরো ধান কেটে গোলায় ওঠাতে পারবে কি না, এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চল সিংপুর, দামপাড়া, কারপাশা, সদর, গুরুই, জারইতলা ও ছাতিরচর এলাকায় বোরো মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ধানে পাকা রং ধরছে। ইতিমধ্যেই চরাঞ্চলে আগাম জাতের বিআর-২৮ ধান কাটা শুরু হয়েছে। শ্রমিক সমাগম খুবই কম। কৃষকরা নিজেরাই পরিবারের লোকজন নিয়ে স্বল্প পরিসরে এসব জমি কাটছেন। ৫-৭ দিনের মধ্যেই সব বিআর-২৮ বোরো জমি কাটার উপযোগী হবে।
কৃষি-শ্রমিক নিকলী সদরের নয়াহাটি গ্রামের মরু মিয়া বলেন, ‘জমি কাটায় যাইব ক্যামনে, কাঁচি (কাস্তে) তো পাইতাছি না। কামারের দোকান বন্ধ। লকডাউন শুরু হয়েছে। ঘরে যেইটা আছে হেইডারেও মেরামত করার ব্যবস্থা নাই।’ উপজেলা বড় হাওরের কৃষক আছির উদ্দিন মিয়া, খায়ুম মিয়া, রেজেক মিয়া জানান, করোনা আতঙ্ক এবং লকডাউনের কারণে এ বছর ধান কাটার শ্রমিক পাব না। যারা নিয়মিত ধান কেটে দিত এবার তারা আসবে না। উপজেলার দামাপড়া ইউনিয়নের নবী হোসেন, সিংপুর ইউনিয়নের সুনামদ্দিন, আলতু মিয়া, ও গুরই ইউনিয়নের কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, ‘ঘরে ধান তোলার আগ পর্যন্ত আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে হাওরের কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে। অন্যান্য বছর দেশের কয়েকটি জেলা থেকে অনেক ধান কাটার শ্রমিক আসত। কিন্তু এবার শ্রমিক আসবে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘এ বছর ৩৬ হাজার ৮৬৩ একর বোরো আবাদ হয়েছে। নিকলীতে খাদ্যের চাহিদা রয়েছে ৩০ হাজার ২৮৭ মেট্রিক টন। উপজেলায় বোরো ধান উত্পাদন হয় ৯৭ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন যা চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অকাল বন্যা, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদি ক্ষয়ক্ষতি না হলে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখছেন।
