দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা
দেবীগঞ্জে চলতি মৌসুমে লিচু গাছে মুকুলে ভরে গেছে। এবারের লিচু গাছের মুকুলের দিকে তাকালে মনে করা যেতেই পারে যে চলতি মৌসুমে লিচুর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে এবারে গাছের এত মুকুল দেখে বাগান মালিকরা খুশি। তারা আশা করছেন, লিচুর ফলনে বাগান মালিকরা লাভবান হবেন।
লিচু বাগান মালিক আক্তার মাস্টার জানান, তার ছয় বিঘা জমিতে রয়েছে লিচু বাগান। গাছ রয়েছে ২০০। গত বছর সব গাছে লিচু ধরেনি, তাতেও দেড় লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছেন। এবার তার সব গাছে ধরেছে মুকুল, লিচু বিক্রি করা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তিনি এবার ৩/৪ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। একই ধরনের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেছেন অপর লিচু বাগান মালিক আব্দুল মালেক। তারও রয়েছে ১২ বিঘা জমিতে লিচু ও আম বাগান।
জেলা কৃষি বিভাগের জরিপে জানা গেছে, পঞ্চগড়ে ২ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে। এতে লিচু গাছের সংখ্যা ২ লাখ। এর মধ্যে দেড় লাখ লিচু গাছের বয়স ১৫ বছরের বেশি। এছাড়াও জেলার ৪৩টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলের বসতবাড়ি এবং আশপাশে রয়েছে বিপুল সংখ্যক লিচুগাছ। লিচু চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই পঞ্চগড়ে বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। হেক্টর প্রতি লিচুর ফলন ৫২৫ টন ধরা হয়েছে। জেলায় পাঁচ জাতের লিচু চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে দেশি জাত, চায়না ২, ৩, ৪ এবং বোম্বে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, এ মুহূর্তে কৃষকদের লিচু বাগানে সুষম সার প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগ প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও দিচ্ছে।
