ভোটারবিহীন সরকার দেশকে গভীর সংকটে নিপতিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার হরণ করে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন অব্যাহত রেখে দেশকে গভীর সংকটে নিপতিত করেছে। সরকারের দমন-নিপীড়নের ধারাবাহিকতায় পাবনা জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান শেখকে গত কয়েক দিন আগে গুম করা হয়, সোমবার তার মরদেহ উদ্ধার করে জনগণ। এছাড়া ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হেলাল আহমেদ, হালিম ফকির এবং সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সদস্য সৈয়দ মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করে। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার বিএনপিসহ বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে গুম, খুন ও অপহরণ, বানোয়াট মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাত্রা এতটাই তীব্র মাত্রা ধারণ করেছে যে, দেশে যেন এখন জংলি শাসন কায়েম হয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষমতার মসনদ জোর করে ধরে রাখতে ক্ষমতাসীনরা এখন আরো বেপরোয়া আচরণ শুরু করেছে। ক্ষমতার দম্ভে আওয়ামী সরকার জুলুম নির্যাতন চালাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে শান্তি ও সহাবস্থানের পূর্বশর্ত। প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারলেই আইনের শাসন ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এখন বর্তমান আওয়ামী সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে। তারা আর জনগণের অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারবে না। বর্তমান স্বৈরাচারী শাসকদের পতন ঘটাতে জনগণ এখন আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে।’
লকডাউনে শ্রমিকদের
অনুদান দেওয়ার দাবি
এদিকে চলমান লকডাউনে শ্রমিকদের জন্য মাসিক সরকারি অনুদানের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে এক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে এ সব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মরহুম জাফরুল হাসানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই সভা হয়। শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইনের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক মঞ্জরুল ইসলাম মঞ্জুর পরিচালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় শ্রমিক জোটের নাইমুল হাসান জুয়েল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ-উল ইসলাম খান, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম প্রমুখ।
