গোপালগঞ্জে ভাসমান বেডে পেঁয়াজ চাষে সাফল্য

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২১, ২১:৪২

খোন্দকার এহিয়া খালেদ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে ভাসমান বেডে পরীক্ষামূলক পেঁয়াজ চাষে সাফল্য এসেছে। সদর উপজেলার নকড়ীরচর গ্রামের বর্ণির বাঁওড়ে ১২টি ভাসমান বেডে পেঁয়াজ চাষের জন্য কৃষককে আর্থিক সহায়তা, বীজ ও পরামর্শ দেয় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিস। ভাসমান বেডে পেঁয়াজ চাষে দেশে প্রথম বারের মতো এই সফলতা এসেছে বলে জানান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ। তিনি আরো বলেন, আগে ভাসমান বেডের ওপর  লতাবিহীন বিভিন্ন শাক ও সবজি উত্পাদন করা হতো। বর্তমানে লাউ, কুমড়া, ঢ্যাঁড়শ, করলার পাশাপাশি উত্পাদন হচ্ছে মসলাজাতীয় ফসল হলুদ ও আদা। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাসমান বেডে পেঁয়াজ চাষ। ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাসের পরামর্শে ভাসমান বেডে প্রথম পরীক্ষামূলক পেঁয়াজ চাষ করা হয়। প্রতি হেক্টরে ২২ টন পেঁয়াজ উত্পাদিত হয়েছে। পেঁয়াজের সাইজ বড়। খেতের পেঁয়াজের তুলনায় বেডে হেক্টরপ্রতি ছয় টন বেশি ফলন দিয়েছে।

সদর উপজেলার নকড়ীরচর গ্রামের কৃষক হানিফ মল্লিক বলেন, বীজতলায় তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজের চারা তৈরি করি। তারপর এ চারা  ১২টি বেডে রোপণ করি। প্রতিটি ১০ বর্গমিটারের বেডে ২২ কেজি পেঁয়াজ উত্পাদিত হয়েছে। সে হিসেবে হেক্টরপ্রতি পেঁয়াজের  ফলন হয়েছে ২২ টন। আন্তঃফসল হিসেবে বেডে মরিচ ও লালশাক আবাদ করেছি। প্রতিটি বেড তৈরি ও বীজ ক্রয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়েছে। এতে কোনো সার বা কীটনাশক লাগেনি। প্রতিটি বেড থেকে উত্পাদিত পেঁয়াজ, মরিচ ও লালশাক বিক্রি নেমেছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

নকড়ীরচর গ্রামের কৃষক ছালেম হোসেন বলেন, হানিফের ভাসমান বেডে পেঁয়াজ চাষ দেখেছি। আগামীতে আমি ভাসমান বেডে পেঁয়াজ চাষ করব।  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জিএম অলিউল ইসলাম বলেন, বর্ষা শেষে নভেম্বর মাসে যখন পানি নামতে শুরু করে তখন কচুরিপানা দিয়ে পেঁয়াজ চাষের বেড তৈরি করতে হয়। এ পদ্ধতির চাষাবাদে বীজের পরিবর্তে প্রতিটি বেডে পেঁয়াজের চারা রোপণ করতে হয়। ৮০ থেকে ৮৫ দিনেই বেড থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করা যায়। সারা দেশের জলাবদ্ধ এলাকায় এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশে পেঁয়াজের উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে।