কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরী এলাকার বেঙ্গল ড্রাগস অ্যান্ড কেমিক্যাল ওয়ার্কস (ফার্মাসিউটিক্যাল) লি. নামের একটি ওষুধ কোম্পানির ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে এই বিস্ফোরণে কোম্পানির অন্তত সাত জন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচ জনই নারী। গুরুতর আহত তিন জনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্ফোরণে ঐ কোম্পানির তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একাংশের দেওয়াল ভেঙে ৬০-৭০ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে বিসিকসহ আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনা তদন্তের জন্য বিকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন।
ওষুধ কোম্পানির লোকজন ও আশপাশের ভবনের বাসিন্দারা জানান, বুধবার সকালে ঐ ভবনে হঠাত্ ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। বিস্ফোরণে দ্বিতীয় তলার একটি অংশের দেওয়ালের ইট-সুরকি কাগজের মতো উড়ে গিয়ে রাস্তায় ও পাশের ভবনে পড়ে। ঘটনার পর শত শত লোক কোম্পানির সামনে ভিড় জমায়। কোম্পানির প্ল্যান্ট ম্যানেজার সুমন চন্দ্র দত্ত জানান, এসির বিস্ফোরণ থেকে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কোম্পানির ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম জানান, ভবনের ঐ কক্ষে এসি, গ্যাস সিলিন্ডার, কিছু কেমিক্যাল ও মালামাল ছিল। বিস্ফোরণে ভবনের একাংশের দেওয়ালসহ ঐ সব মালামাল উড়ে গিয়ে রাস্তায় পড়ে। এ সময় ইট ও কাচের টুকরার আঘাতে ছয়-সাত জন শ্রমিক আহত হন। আহতরা হলেন শামীমা, আল আমিন, শারমিন আক্তার, জুলেখা বেগম, ফাতেমা ও ফাহমিদা। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত জুলেখা বেগম, শামীমা ও আল আমিনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তফা কামালের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কুমেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের প্রধান ডা. মির্জা তাইয়্যেবুল ইসলাম জানান, ‘আহতদের শরীর পুড়ে যায়নি, ফ্র্যাকচার হয়েছে। তাই তাদের জেনারেল ওয়ার্ডে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।’ ফায়ার সার্ভিসের কুমিল্লা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘ওষুধ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসি থেকে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে, তবে বিস্ফোরণের ভয়াবহতা দেখে তা মনে হয় না। কেমিক্যাল থেকে কিংবা অন্য কোনো কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিস্ফোরণের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মাঈন উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অপর তিন সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (বিসিক) কুমিল্লার ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলম এবং ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড ডিফেন্স কুমিল্লা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। বিস্ফোরণে আহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’
