ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব

৪৫ মামলায় আসামি ৩০ হাজার, নাম নেই হেফাজত নেতাকর্মীর

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সদর মডেল থানাতেই ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া আশুগঞ্জ থানায় দুটি, সরাইল থানায় দুটি ও আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মঙ্গলবারই সদর থানায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়। মোট ৪৫টি মামলায় ৩০ হাজারেরও বেশি লোককে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি মামলায় মাত্র ১৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। বাকি ৩৯টি মামলায় সবাই ‘অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী’। তবে কোনো মামলাতেই হেফাজতের কোনো নেতাকর্মীর নাম নেই।

পুলিশ জানায়, তাণ্ডবের সময় ভিডিও ফুটেজ ও স্থির ছবি দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েক জনকে শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হেফাজতের নেতাকর্মীদের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে হরতালের দিন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুরকারী আরমান আলিফ (২২)। গত ৪ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার বিশ্বরোড এলাকা থেকে র্যাব-১৪-এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে র্যাব সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাজীপাড়ায় আরমান আলিফের ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙার কাজে ব্যবহূত একটি শাবল, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক আবদুন নূর একের পর এক ঘটনার জন্য বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে দায়ী করেছেন। সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলম বলেন, ‘২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারিও এখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সে ঘটনার বিচার হয়নি। এবারের ধ্বংসযজ্ঞে গানপাউডার ব্যবহার করা হয়। এসব থেকে বোঝা যায় এটা পরিকল্পিত হামলা।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে।