চট্টগ্রামের কয়েকটি বিদ্যালয়ে গতকাল রবিবার আকস্মিক পরিদর্শন করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ে অনুপস্থিতির অভিযোগ পেয়ে দুদক চেয়ারম্যান আকস্মিক ৫টি বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেন।
গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় দুদক চেয়ারম্যান হাজির হন কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে গিয়ে তিনি স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বাইরে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। এসময় তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন। পরে তিনি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে দেখেন আটজন শিক্ষকের মধ্যে একমাত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উপস্থিত। বাকি সাতজন শিক্ষক অনুপস্থিত। দুদক চেয়ারম্যান অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে দুদক ১৬৬ ধারা প্রয়োগ করবে। তারপরও কেউ ভবিষ্যত্ প্রজন্মের ক্ষতিসাধন করলে বা চেষ্টা করলে ছাড় দেয়া হবে না।
এরপর দুদক চেয়ারম্যান ভাটিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। ওই বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষকের মধ্যে দুইজন অনুপস্থিত পান। তাদের অনুপস্থিতির কারণ স্কুল কর্তৃপক্ষ দুদক চেয়ারম্যানকে জানাতে পারেনি। দুদক চেয়ারম্যান ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির তালিকা পরীক্ষা করে দেখেন। গতকাল যেসব শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে অনেককেই উপস্থিত দেখানো হয়েছে। এরপর দুদক চেয়ারম্যান যান শীতলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করা কোন শিক্ষার্থীকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়ার তথ্য জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তবে নবম শ্রেণিতে এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীদের ২ হাজার টাকার বিনিময়ে দশম শ্রেণিতে উন্নীত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুদক চেয়ারম্যান। পরে দুদক চেয়ারম্যান মিরসরাই উপজেলায় আরো দু’টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
