আলমগীর রেজা চৌধুরী
নন্দন কাননের চড়াই-উতরাই পথ। চূড়ার মাথায় প্রকাণ্ড পাকুড় বিরিক্ষি
আধখানা চাঁদ উঠে এসেছে চার্চ রোডে শিশির দত্তের বাড়ি বরাবর।
খালিদ আহসানের মগ্ন-চৈতন্য খুঁজে বেড়ায় ত্রিমাত্রিক ফর্ম
ক্রমাগত ওর উচ্চারণ, ‘মানুষের মুখাবয়ব।’
ও তো ঘাসফড়িং হয়ে ফিরে যায় জীবনানন্দের বাড়ি।
অহর্নিশ অন্তহীন আনন্দ-বেদনায় দোয়েলের জীবন হয়ে ওঠে।
চন্দ্রাহত শিল্পী, নিজকে পোড়ায়। চর্মে কালশিটে দাগ। চোয়ালে পরাজিত
প্রেম। শুধু হঠাত্ হঠাত্ চোখের ভাঁজে জেগে থাকে তৃতীয় বিশ্বের
শ্রমিকের আদল। যে কেবল শিল্পের বেসাতিতে পণ্য হয়ে ওঠে।
‘বোকা নিয়মকানুন শিখিসনি কিছু।’
সব পালটায়। পৃথিবীর তাবত্ নির্মাণ। সময় পালটে নিয়ে যায় নস্টালজিক জমিনে।
কিলবিল করে শিল্পের ভ্রূণ। আর তখন একান্ত গভীর গোপনে আইভি লতায়
জড়িয়ে রাখে শিল্পের অর্গল। পাতক শিল্পী, সহস্র বর্ষ মগ্ন নার্সিসাস।
মধ্যরাত হা হা করে ঝংকার তোলে। টাইগারপাসের কাছে আসতেই কেটে পড়ে
কবি ওমর কায়সার। ধাবমান পথচলায় থমকে দাঁড়ায়, ল্যাম্পপোস্টের আলোয়
কাফকার মতন তাকায় চারদিক। শিল্পভুক নাদান কাঙাল।
দেওয়ানহাট ব্রিজে উঠতেই মধ্যরাতের তক্ষক ডেকে ওঠে,
চাঁদ হেলে পড়ে নিঝুম ষোলশহর ইস্টিশনে।
