ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাকে ১০ বার শোকজ করলেও আমি একই কথা বলব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিদিন হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের কথা বলছেন। তার বিরুদ্ধে কয়টা অভিযোগ হয়েছে? গতকাল বৃহস্পতিবার হাওড়ার ডোমজুড়ে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনি প্রচরণায় যোগ দিয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এখানেও উত্তর প্রদেশের মতো অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড গড়ে তোলা হবে। স্কুল-কলেজের সামনে এই দলগুলো পাহারা দেবে।
পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচন অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে। ইতিমধ্যে তিন দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। আট দফার ভোটগ্রহণের চতুর্থ দফায় ভোটগ্রহণ হবে আগামীকাল শনিবার। এই দফায় ৫ জেলার ৪৪ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ভাগ্য নির্ধারিত হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান ব্যানার্জিসহ তৃণমূল কংগ্রেসের ছয় মন্ত্রীর। গতকালই এসব আসনে প্রচারণা শেষ হয়েছে।
নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন অভিযোগ তুলে গত বুধবার মমতা ব্যানার্জিকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে হাওড়ার জনসভায় মমতা বলেন, ‘নন্দীগ্রামে মুসলিমদের যারা পাকিস্তানি বলেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কয়টা অভিযোগ করা হয়েছে? শুধু তৃণমূলের বিরুদ্ধেই অভিযোগ পরিকল্পনা করে আমার বিরুদ্ধে এসব করে কোনো লাভ হবে না। আমাদের জয় নিশ্চিত।’
অন্যদিকে হুগলির বৈদ্যবাটিতে এক প্রচারণা সভায় যোগী আদিত্যনাথ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে উত্তর প্রদেশের মতো অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড গড়া হবে। বাচ্চা মেয়েদের স্কুলের সামনে যেসব বখাটেরা ঘুরে বেড়ায়, তাদের ধরতে স্কুলের বাইরে ঘুরবে এই স্কোয়াড। তিনি বলেন, ‘আমরা যা বলি তা করি।’ রামমন্দির নির্মাণ থেকে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তৃণমূলসহ অন্য দলগুলো রামমন্দিরের বিরোধিতা করে এসেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি রামমন্দির তৈরি করে দেখিয়েছেন। কংগ্রেস যে অধিকার থেকে দেশবাসীকে বঞ্চিত করেছিল, তা ফিরিয়ে দিয়েছে বিজপির সরকার।
এদিকে চতুর্থ দফার প্রচারণার শেষ দিনে কলকাতার বেহালায় মিঠুন চক্রবর্তীকে রোড শো করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এ নিয়ে বিজেপির কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় কংগ্রেস, সিপিএম জোটের হয়ে প্রচারণায় যোগ দিতে পারেন রাহুল গান্ধী। শেষ দুই দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৬ ও ২৯ এপ্রিল। এ দুই দফায় জাতীয় কংগ্রেসের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মালদা ও মুর্শিদাবাদে ভোটগ্রহণ হবে।
এদিকে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট জানিয়েছে, ঝুলন্ত বিধানসভা হলে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করবে না তারা। গতকাল কলকাতা প্রেস ক্লাবে মিট দ্য প্রেসে এ কথা বলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি বলেন, ‘এরকম পরিস্থিতিতে তৃণমূল, বিজেপি কেউই যদি জয়ী হতে না পারে, তাহলে তারা এক জোট হয়ে সরকার গঠন করতে পারে। যদি এমন পরিস্থিতি আসে তাহলে আমরা দুই পক্ষের থেকেই সমান দূরত্ব বজায় রাখব।’
